খুলেছে পোশাক কারখানা কাজে ফিরছেন শ্রমিকরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে পোশাক কারখানাগুলোর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। বকেয়া বেতন প্রদান, হাজিরা বোনাস বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া মেনে নেওয়ার পর গতকাল সকাল থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মস্থলে ফেরেন শ্রমিকরা। এদিকে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে দ্বিতীয় সভা আগামী সোমবার অনুষ্ঠিত হবে। সভায় মালিক ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধিরা পৃথকভাবে তাদের প্রস্তাবিত মজুরি কাঠামো জমা দেবেন। একই সঙ্গে সব গ্রেডের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। সোমবার বেলা ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মজুরি বোর্ডের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ আজাদ সুবহানী।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় সভার আলোচ্যসূচিতে রয়েছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রথমত, পোশাকশিল্পের মালিক ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধিরা তাঁদের প্রস্তাবিত মজুরি হারের লিখিত প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন। দ্বিতীয়ত, শিল্প খাতের সব গ্রেডের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত ন্যূনতম মজুরি হার নিয়ে আলোচনা হবে। এর আগে ৪ নভেম্বর বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় মালিক ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধিরা পরবর্তী বৈঠকে তাঁদের নিজ নিজ প্রস্তাব জমা দেওয়ার কথা জানান। ফলে দ্বিতীয় সভার মধ্য দিয়ে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের আলোচনা আরও আনুষ্ঠানিক ও কার্যকর পর্যায়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এদিকে গতকাল সরেজমিন দেখা গেছে, সকাল ৭টা থেকে কারখানাগুলোর সামনে শ্রমিকদের ঢল নামে। পরিচয়পত্র দেখিয়ে সারিবদ্ধভাবে এবং শান্ত পরিবেশে পোশাকশ্রমিকরা নিজ নিজ কর্মস্থলে প্রবেশ করেন। কারখানাগুলোতে উৎপাদন কাজও পূর্ণ গতিতে চলছিল এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
সাভার ও আশুলিয়ার বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত কারখানার মালিকরা জানান, কয়েক দিনের উদ্ভূত পরিস্থিতি কাটাতে মালিক, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে দফায় দফায় বৈঠক হয়। শ্রমিকদের যুক্তিযুক্ত দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া এবং কিছু ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় অসন্তোষ কেটে গেছে। কারখানায় ফিরে এক নারী শ্রমিক জানান, দাবিদাওয়া নিয়ে কিছু জটিলতা ছিল, যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের রুটিরুজির জায়গা ঠিক রাখতে এবং কারখানার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা সবাই আজ কাজে যোগ দিয়েছি।
তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা আশা প্রকাশ করছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় উৎপাদন ঘাটতি দ্রুত পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য রপ্তানি বজায় রাখা যাবে। আমাদের সাভার প্রতিনিধি জানান, গতকাল উৎসবমুখর পরিবেশে সকাল থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। কারখানাগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চলছে উৎপাদন কার্যক্রম। সকাল থেকে ঢাকা-আরিচা ও আশুলিয়া-বাইপাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত অধিকাংশ পোশাক কারখানা খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি ঢাকা-আরিচা ও বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর মহাসড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক ছিল।
এদিকে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শিল্পাঞ্চলে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন রয়েছে বিজিবির ১৩ প্লাটুন সদস্য। এ ছাড়াও দায়িত্ব পালন করছেন ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। আশুলিয়া শিল্পপুলিশের পরিচালক মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
সংঘর্ষের ঘটনার পুলিশের মামলা : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় শ্রমিক আন্দোলন ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এতে ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ব”হস্পতিবার রাতে ফতুল্লা মডেল থানার এসআই শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেছেন। এ মামলায় শিবু (৪২) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
