ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সামনে তিন সামরিক বিকল্প
অনলাইন ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে আলোচনার অচলাবস্থার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে। অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকলেও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান চালানোর জন্য তিনটি সামরিক বিকল্প প্রস্তুত করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকম)।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে এসব পরিকল্পনার বিস্তারিত ব্রিফ করবেন। ব্রিফিংয়ের সময়সূচি দেখে ধারণা করা হচ্ছে, হয় শান্তি আলোচনার অচলাবস্থা ভাঙতে, নয়তো যুদ্ধের আগে ‘চূড়ান্ত আঘাত’ দিতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন ট্রাম্প।
সেন্টকমের প্রথম বিকল্প পরিকল্পনায় ইরানের ওপর স্বল্প সময়ের কিন্তু শক্তিশালী বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা বলা হয়েছে। এতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, যাতে তেহরান আলোচনায় আরও নমনীয় হয়। তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে হরমুজ প্রণালির একটি অংশ সামরিকভাবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করা যায়। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরল গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে এই অভিযানে স্থলবাহিনীর অংশগ্রহণ প্রয়োজন হতে পারে।
তৃতীয় বিকল্পটি সবচেয়ে সংবেদনশীল—ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিরাপদে দখলে নিতে বিশেষ বাহিনীর অভিযান। ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিই যুদ্ধ শুরু করার প্রধান কারণ।
প্রায় ৬০ দিনের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এই সংকটকে আরও বাড়াতে বা কমাতে—দু’দিকেই বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
