কুড়িগ্রামে হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামে মাঘের শীতের দাপট কোনভাবেই কমছে না। গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে জেলায় শীতের প্রভাবে মানুষের দুর্ভোগ এখন মারাত্মক পর্যায়ে গেছে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষের অবস্থা কাহিল হয়ে পড়েছে। বইছে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্য প্রবাহ। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ঘন মেঘের আনাগোনা। ফলে দেখা যায়না সূর্যের মুখ।

শনিবার সকাল ৯টায় রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার অফিস তাপমাত্রা রেকর্ড করে ৮ দশমিক ৫ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে জেলায় শনিবার আবারো মৃদু শৈত্য প্রবাহ বইছে।
এদিকে,দুপুরের পর সুর্যের মুখ দেখা গেলেও তাপমাত্রা তেমন না থাকায় মানুষের মাঝে স্বস্তি মেলেনি।ফলে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষরা কাজ করতে না পেরে পড়েছেন চরম বিপাকে। তাপমাত্রা প্রতিদিনই নিম্নগামী হওয়ায় শীত কষ্টে ভুগছে নদনদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষ। জেলার সাড়ে ৪ শতাধিক চরের বাসিন্দা ঠান্ডায় কাতর অবস্থায় পড়েছেন। অনেকেই আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্ট করছেন।

এদিকে,তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে থাকায় জেলার মাধ্যমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ের ২ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে প্রায় ৬দিন ধরে। রবিবার তাপমাত্রা কমে গিয়ে ১০ডিগ্রির নিচে নামলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নতুন করে বন্ধ ঘোষণা আসতে পারে বলেও জানায় জেলা শিক্ষা বিভাগ।প্রচন্ড শীত ও কুয়াশার কারনে বিলম্বিত হচ্ছে বোরো আবাদ।
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যব্ক্ষেণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, আরো দু একদিন তাপমাত্রা কমে পরিস্থিতির উন্নতি হয়ে স্বাভাবিক হতে পারে।
এ পর্যন্ত শীতার্ত মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল বলে জানান অনেক শীতার্ত মানুষ।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাঈদুল আরীফ জানান, ৬৭ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়। এছাড়াও ৪ হাজার কম্বল উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights