ক্যাম্পাসজুড়ে বর্জ্য খসে পড়ে পলেস্তারা
জানে আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
আয়তনে দেশের বৃহত্তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, কিন্তু মৌলিক সেবায় এখনো সংকটে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর ৭৫ শতাংশই আবাসনের বাইরে। ১৫ থেকে ১৯ হাজার শিক্ষার্থীর প্রতিদিনের যাতায়াতের ভরসা মাত্র দুটি শাটল ট্রেন। প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর স্বাস্থ্যসেবায় চিকিৎসক মাত্র ১১ জন। লাইব্রেরিতে আসন ও বইয়ের সংকটের পাশাপাশি ক্যাম্পাসজুড়ে জমছে বর্জ্য। প্রতিষ্ঠার ছয় দশক পরও এসব মৌলিক সংকট যেন নিত্যদিনের বাস্তবতা হয়ে আছে।
১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর হাটহাজারীর ফতেপুরে ১ হাজার ৭৫৩ একর পাহাড়ি ও সমতল ভূমিতে প্রতিষ্ঠিত চবির বর্তমান আয়তন প্রায় ২ হাজার ৩০০ একর। সাতটি অনুষদ ও তিনটি ইনস্টিটিউটের ৫৪ বিভাগে পড়ছেন ২৭ হাজার ৮৩৯ শিক্ষার্থী।
আবাসনসংকট প্রকট : ১৫ আবাসিক হলে আসন সাড়ে ৬ হাজারের কম। ফলে মাত্র ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসনসুবিধা পাচ্ছেন। বাকিদের থাকতে হচ্ছে আশপাশের কটেজ ও মেসে। এসব আবাসনের অনেক কক্ষ ছোট, স্যাঁতসেঁতে ও অপরিচ্ছন্ন। পানি, বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অনাবাসিক ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেশি। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান জানান, কটেজ মালিকদের সঙ্গে বসে ভাড়ার নীতিমালা করা হবে। পাঁচটি ছাত্র ও পাঁচটি ছাত্রী হল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি হবে ১০ তলা।
শাটলে গাদাগাদি, চিকিৎসায় জনবলসংকট : দুটি শাটলের ২০টি বগিতে আনুমানিক ৭০০ থেকে ৯০০ আসন থাকলেও প্রতিদিন যাতায়াত করেন ১৫ থেকে ১৯ হাজার শিক্ষার্থী। ফলে গাদাগাদি করে, এমনকি ছাদ ও বগির সংযোগস্থলে দাঁড়িয়েও যাতায়াত করতে হয়। রেললাইন সংস্কারের অভাবে শিডিউল বিপর্যয়ও নিয়মিত। চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসক মাত্র ১১ জন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষানিরীক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। তিনটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সময়মতো পাওয়া নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। ক্যাম্পাসে বিষধর সাপের বিচরণ থাকলেও সাপের বিষের প্রতিষেধক নেই বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।
লাইব্রেরিতে বই-আসনসংকট, ক্যাম্পাসে বর্জ্য : কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে আসনসংকট প্রকট। ওয়েবসাইটে বইয়ের নাম থাকলেও অনেক সময় লাইব্রেরিতে তা পাওয়া যায় না বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ক্যাটালগ না থাকায় বই খুঁজতেও ভোগান্তি হয়। অন্যদিকে প্রধান ফটক থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরেই খোলা জায়গায় ময়লার স্তূপ। হল, ক্যান্টিন ও দোকান থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার কেজি বর্জ্য বিভিন্ন স্থানে জমছে। ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ ও রোগজীবাণু। ছয় দশকে বেড়েছে শিক্ষার্থী, বিভাগ ও ক্যাম্পাসের আয়তন; বদলেছে প্রশাসন, হয়েছে নানা পরিকল্পনা। কিন্তু আবাসন, যাতায়াত, চিকিৎসা, পাঠাগার ও পরিবেশ-বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের মৌলিক সেবাগুলোতেই এখনো বড় ঘাটতি রয়ে গেছে।
