খেলতে গিয়ে মৃত্যু ফাঁদে, মায়ের চোখের সামনেই তিন ভাইয়ের প্রাণহানি!

অনলাইন ডেস্ক

ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটির টেক্সাসে খেলতে নেমে জমাট বরফে ঢাকা একটি পুকুরে পড়ে মুহূর্তেই প্রাণ হারিয়েছেন তিন ভাই। স্থানীয় সময় গত সোমবার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

এদিকে সন্তানদের বাঁচাতে গিয়ে মায়ের অসহায় চেষ্টা, প্রতিবেশীর ছুটে আসা আর শেষ পর্যন্ত নিথর মরদেহ উদ্ধার— পুরো ঘটনাটি শোক আর হৃদয়বিদারক বেদনায় ছুঁয়ে গেছে এলাকাবাসীকে।

মৃত ওই তিন ছেলের মা শেইয়েন হ্যাঙ্গাম্যান জানান, সন্তানদের বাঁচাতে তিনি নিজে পানিতে নেমে তাদের টেনে তুলে বরফের ওপর রাখার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বরফ বারবার ভেঙে পড়ায় তিনি আর তাদের রক্ষা করতে পারেননি। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “তারা ছিল তিনজন, আর আমি ছিলাম একা… তাই আমি ওদের বাঁচাতে পারিনি।”

মারা যাওয়া তিন ভাইয়ের বয়স ছিল ছয়, আট ও নয় বছর। তাদের মা বলেন, প্রত্যেকেই ছিল আলাদা স্বভাবের, প্রাণবন্ত আর হাসিখুশি।

তিনি অন্য অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, “নিজের সন্তানদের শক্ত করে ধরে রাখুন, আর সব সময় বলুন— আপনি তাদের ভালোবাসেন।”

ছয় সন্তানের জননী শেইয়েন জানান, তার মেয়ে দৌড়ে এসে চিৎকার করে জানায় যে, ছেলেরা পুকুরে পড়ে গেছে। বাড়ি থেকে প্রায় ৩০ মিটার দূরে থাকা পুকুরটির পাশেই শিশুরা খেলছিল।

মায়ের ভাষ্যানুযায়ী, ছোট ছেলে হাওয়ার্ড বরফের ওপর ‘আইস স্কেটিং’ করার চেষ্টা করলে প্রথমে বরফ ভেঙে পানিতে পড়ে যায়। তাকে বাঁচাতে দুই বড় ভাই— কালেব ও ইজেও পানিতে ঝাঁপ দেয়।

শেইয়েন বলেন, “আমি যখন ওদের দেখলাম, তখন ওরা ছটফট করছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম, ওদের শরীর ইতোমধ্যেই শকে চলে গেছে। পানি ছিল ভয়ঙ্কর ঠান্ডা।”

সন্তানদের বাঁচাতে গিয়ে তিনিও পানিতে ডুবে যেতে বসেছিলেন। পরে প্রতিবেশী একজন তাকে উদ্ধার করেন। তিনি বলেন, “নিজের সন্তানদের জীবনের জন্য লড়াই করছিলাম। ওদের চোখের সামনে ডুবে যেতে দেখেছি, কিন্তু আমি কিছুই করতে পারিনি।”

প্রতিবেশী ওই ব্যক্তিটি ছিলেন ছেলেদের স্কুলের একজন ফুটবল কোচ। মায়ের চিৎকার শুনে তিনি দৌড়ে আসেন। ঘোড়ার দড়ি দিয়ে শেইয়েনকে পানি থেকে টেনে তোলেন তিনি।

স্থানীয় শেরিফ দফতরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জরুরি উদ্ধারকর্মী ও এক প্রতিবেশীর সহায়তায় প্রথমে দুই বড় ছেলেকে পানি থেকে তোলা হয় এবং স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ছয় বছর বয়সী শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে শিশুদের নাম প্রকাশ না করলেও পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা হলেন— ছয় বছরের হাওয়ার্ড ডস, আট বছরের কালেব ডস এবং নয় বছরের ইজে ডস।

মা জানান, ইজে বড় হয়ে ফুটবল তারকা হতে চাইত, কালেব নাচতে ও গান গাইতে ভালোবাসত, আর ছোট হাওয়ার্ড সবার মুখে হাসি ফোটাতে ভালোবাসত।

শিশুদের স্কুল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “এই অকল্পনীয় ক্ষতিতে আমরা বিধ্বস্ত।” শিক্ষার্থী ও কর্মীদের মানসিক সহায়তার জন্য কাউন্সেলরও রাখা হয়েছে।

এই ঘটনা ঘটেছে এমন এক সময় যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ শীতকালীন ঝড় আঘাত হেনেছে। টেক্সাসসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে এই ঝড়ে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। হাজার হাজার মানুষ আছেন বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায়। সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights