গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সদস্য গ্রেফতার
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভির এক সদস্যের বিরুদ্ধে একটি অজ্ঞাত বিদেশি শক্তির হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশ। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা আইনের (এনএসএ) আওতায় তার বিরুদ্ধে এমন কিছু তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা ওই বিদেশি শক্তির স্বার্থে কাজে লাগতে পারে।
অভিযুক্তের নাম টেডি ইয়ং। ২৪ বছর বয়সী এই নৌসদস্য ইংল্যান্ডের বেডফোর্ডশায়ারের বাসিন্দা। মঙ্গলবার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে তাকে হাজির করার কথা রয়েছে।
লন্ডনের কাউন্টার-টেররিজম পুলিশিংয়ের প্রধান কমান্ডার হেলেন ফ্লানাগান বলেন, সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত একজন সদস্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর।
তিনি বলেন, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে পুলিশ।
কী অভিযোগ আনা হয়েছে?
পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২১ মে পর্যন্ত সময়ের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে ইয়ংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে এমন অপরাধের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য ছিল সুরক্ষিত তথ্য প্রকাশ করা।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ইয়ং এমন কিছু সুরক্ষিত তথ্য সংগ্রহ, কপি, রেকর্ড বা নিজের কাছে সংরক্ষণ করেছিলেন, যা কোনও বিদেশি শক্তির স্বার্থে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্য ছিল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত জানতেন অথবা তার জানা উচিত ছিল যে এসব কর্মকাণ্ড যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা বা জাতীয় স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
তবে কোন দেশের হয়ে তিনি এসব কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন, তা প্রকাশ করেনি পুলিশ।
রয়্যাল নেভির সদস্য হওয়ায় গুরুত্ব পাচ্ছে বিষয়টি
অভিযুক্ত ব্যক্তি বর্তমানে ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য হওয়ায় ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সামরিক বাহিনীর সদস্যদের হাতে সংবেদনশীল ও সুরক্ষিত তথ্য থাকার সম্ভাবনা থাকায় এ ধরনের অভিযোগ জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করে।
কমান্ডার হেলেন ফ্লানাগান বলেন, তদন্ত চলাকালে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পুলিশ ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করেছে।
তবে ইয়ংয়ের বিরুদ্ধে যে তথ্য সংগ্রহ বা সংরক্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো কী ধরনের বা কোন সামরিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত- তা পুলিশ জানায়নি।
আরএএফ ফেয়ারফোর্ড-এর ঘটনার সঙ্গে সম্পর্ক নেই
ব্রিটিশ পুলিশ স্পষ্ট করেছে, ইয়ংয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গে সম্প্রতি রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের কোনও সম্পর্ক নেই।
ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির আশপাশে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর ওই ঘটনা নিয়ে কাউন্টার-টেররিজম পুলিশ তদন্ত করছে। মঙ্গলবার এ ঘটনায় সপ্তম এক ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
তবে ইয়ংকে একই দিন বেডফোর্ডশায়ারে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হলেও পুলিশ জানিয়েছে, দুটি ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র নেই।
মন্তব্য করতে নারাজ নৌবাহিনী
ইয়ংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রয়্যাল নেভি। তবে আদালতে আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ব্রিটিশ নৌবাহিনী।
এক বিবৃতিতে রয়্যাল নেভির মুখপাত্র বলেন, তাদের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আইনি কার্যক্রম চলমান থাকায় এই পর্যায়ে এর বেশি মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
অভিযুক্ত ব্যক্তি আপাতত হেফাজতে রয়েছেন এবং বৃহস্পতিবার ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে তাকে হাজির করা হবে। আদালতে অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে।
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এখনও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গে কোনও নির্দিষ্ট বিদেশি রাষ্ট্রের নাম প্রকাশ করেনি। ফলে কোন দেশের স্বার্থে তিনি কথিতভাবে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন এবং ওই তথ্যের প্রকৃতি কী ছিল, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত জানা যাচ্ছে না। সূত্র: বিবিসি
