তাজমহলে মার্কো রুবিও’র ছবি নিয়ে কটাক্ষ ইরানের
অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার চারদিনের ভারত সফর শেষ করে ফিরে গেলেও এ নিয়ে আলোচনা থামছে না। রুবিও ভারত সফরের সময় আগ্রার তাজমহল পরিদর্শন করেন।
তাজমহলের সামনে স্ত্রীর সঙ্গে ছবিও তুলেছিলেন তিনি। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন রুবিও। হায়দ্রাবাদে ইরানি কনস্যুলেটের তরফে এই ছবি নিয়ে কটাক্ষ করা হয়।
ইরানের কনস্যুলেট সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা বিবৃতির মাধ্যমে রুবিওকে ‘স্মরণ’ করিয়ে দেয় যে তাজমহল ইরানি বংশোদ্ভূত মমতাজের প্রতি মুঘল সম্রাটের ভালোবাসার স্মৃতিসৌধ এবং এর নির্মাণের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন পারস্যের দক্ষ স্থপতিরা।
ইরানের উপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে সেদিকে ইঙ্গিত করে প্রকাশিত এই বিবৃতিতে ওয়াশিংটনের সমালোচনা করা হয়। ইরানের কনস্যুলেটের মতে, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সভ্যতা ‘নিশ্চিহ্ন’ করতে চাইছে। আর অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা ভিন্ন দেশে গিয়ে সেই সভ্যতার ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের প্রশংসা করছেন। এই ‘দ্বৈত অবস্থানের’ কড়া সমালোচনা করে হায়দ্রাবাদে অবস্থিত ইরানি কনস্যুলেট।
এই মন্তব্য বিষয়টাকে শুধু ইতিহাসের প্রেক্ষাপটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেনি তারা, আন্তর্জাতিক রাজনীতির রঙেও রাঙিয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের মাঝে দুই পক্ষই প্রায়শই একে অন্যের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া দেয়, সমালোচনা করে।
ইরানি কনস্যুলেটের ওই পাল্টা পোস্ট ক্রমে ভাইরাল হয়ে যায়। একে কেন্দ্র করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া মিলেছে। একদিকে যেমন কেউ কেউ কিছু মার্কো রুবিওকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে ঐতিহাসিক পটভূমি না বুঝে যে কোনো জায়গায় ছবি তোলা ঠিক নয়, কেউ কেউ আবার বিষয়টাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করে একে “কূটনৈতিক প্রতীক” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ইরানের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে রিজওয়ান শাহ নামের এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, “মার্কো রুবিও যদি স্মৃতিসৌধের ইতিহাস সম্পর্কে জানতেন, তাহলে তিনি সম্ভবত এখানে ছবি তুলতেন না।”
“পারস্যের স্থপতিরা একজন ইরানি রানীর জন্য এই ভবন নির্মাণ করেছিলেন এবং এটা এমন এক সভ্যতার প্রতীক যাকে তাদের (মার্কিন) প্রশাসন বিপন্ন করে তুলেছে এবং (মার্কিন প্রশাসন এর প্রতি) সম্মানও দেখায় না।”
সূত্র: বিবিসি
