‘দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে ঢাবি’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

দৃষ্টি প্রতিবন্ধীতার শিকার শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ ও মানবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কাজ করছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও বিভিন্ন বিভাগে প্রবেশগম্য পাঠকক্ষ, উন্নত পাঠপ্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের ফুটপাত ও চলাচলের পথ প্রতিবন্ধীবান্ধব করা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ১৬০ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মধ্যে সাদাছড়ি ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, সাদা ছড়ি দুর্বলতার প্রতীক নয়, বরং স্বাধীনতা, আত্মনির্ভরশীলতা ও নিজের পথ নিজে খুঁজে নেওয়ার সাহসের প্রতীক। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মেধা, অধ্যবসায় ও অন্তর্দৃষ্টি কোনো অংশেই কম নয়। তাদের সক্ষমতা ও অর্জনের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া এবং শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা সমাজের দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার আদর্শ ধারণ করে আসছে। কোনো শিক্ষার্থী যেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতার কারণে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সচেতন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ চলাচল, স্বাধীনতা, আত্মমর্যাদা ও আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে সবাইকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। তিনি বলেন, সাদা ছড়ি শুধু চলাচলের সহায়ক উপকরণ নয়, এটি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাধীনতা, আত্মবিশ্বাস ও নিরাপদ পথচলার প্রতীক। তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশের পাশাপাশি বাস্তব জীবনে সমান সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের কমপ্লেইন্ট অ্যান্ড ভিজিল্যান্স কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মতিন এবং নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মো. আতিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের প্রিন্সিপাল প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান। তার উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল আহাদ ফাউন্ডেশন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights