বড় ক্লাবগুলোকে পাশে চায় টেবিল টেনিস

ক্রীড়া প্রতিবেদক

টেবিল টেনিস ইনডোর গেমস হলেও এক সময়ে এ খেলার জনপ্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। আশি ও নব্বইয়ের দশকে পুরান ক্রীড়া পরিষদের কোচিং সেন্টারে লিগ, জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ ঘরোয়া আসরের বিভিন্ন খেলা অনুষ্ঠিত হতো। উপচে পড়ত দর্শক। ভিড় সামলাতে এমন অবস্থা হয়েছিল যে, টেবিল টেনিস ফেডারেশনকে টিকিটের ব্যবস্থা করতে হয়েছিল। তবু ইনডোরে দর্শকের ঢেউ থামান যায়নি। বাংলাদেশের খেলাধুলায় তারকা বলতে তো ফুটবল, ক্রিকেট ও হকি খেলোয়াড়দের বোঝায়। কিন্তু ওই সময়ে টেবিল টেনিস অর্থাৎ টিটির খেলোয়াড়রাও তারকার খ্যাতি পেয়েছিলেন। মহিলা বিভাগে হলেও জোবেরা রহমান লিনু তো দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অন্যতম জনপ্রিয় খেলোয়াড়। জুলেখাও সুনাম কুড়িয়েছিলেন।

পুরুষ বিভাগে সাদি, কচি, রিন্টু, রোচি, মুন্সি, আমজাদ, মাওলা, জসিম, হ্যাপি, সুমিত, মুন্না ছিলেন বড় মাপের খেলোয়াড়। রাস্তায় দেখামাত্রই তাদের চিনে ফেলত। সেসব এখন সোনালি স্মৃতি। টিটি ফেডারেশন আছে, অনিয়মিত হলেও বিভিন্ন টুর্নামেন্টও হচ্ছে। কিন্তু আগের সেই জৌলুস ও জনপ্রিয়তা নেই। হতাশার মধ্যেও আশার কথা শোনালেন সাবেক জাতীয় চ্যাম্পিয়ন সাইদুল হক সাদি। তিনি এখন টিটি ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক।

সাদি বলেন, ‘আমাদের কমিটির মূল লক্ষ্য নির্বাচন দিয়ে নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া। জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর ঠিক হলেই আশা করি নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দেওয়া যাবে। তবে তাই বলে টিটির কার্যক্রম থেমে থাকেনি। এশিয়ান গেমসে খেলেছে। অক্টোবরে এশিয়ান কাপেও অংশ নেব। তা ছাড়া ঘরোয়া আসর নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’ সাদি বলেন, ‘আপনি যদি টিটিকে আগের জায়গায় দেখতে চান। তাহলে পরিকল্পনা করে এগোতে হবে। জৌলুস ফেরাতে দেশের বড় বড় ক্লাবের লিগ ও টুর্নামেন্টে পাশে থাকাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বসুন্ধরা কিংস, আবাহনী ও মোহামেডানের মতো দেশখ্যাত ক্লাবগুলোকে টিটির পাশে দেখতে চাই। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তিন ক্লাবকেই টেবিল টেনিসের দল গড়তে অনুরোধ জানানো হবে। আমার বিশ্বাস জনপ্রিয় ক্লাবগুলো খেললে টেবিল টেনিসের চেহারা বদলে যাবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights