বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের উন্নয়নে ৩০৮ কোটি টাকার প্রকল্প
ইমরান চৌধুরী
চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণে ৩০৮ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের আওতায় তিন বিভাগের বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের রৌফাবাদে নির্মাণ করা হবে ২০০ আসনের একটি আধুনিক আবাসিক হোস্টেল। পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশ পাওয়া প্রকল্পটি আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ‘চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠান রৌফাবাদ, চট্টগ্রামে হোস্টেল ভবন সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধীকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর। নির্মাণকাজে সহযোগিতা করবে গণপূর্ত অধিদপ্তর। প্রকল্পটির মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৮ কোটি ৩০ লাখ ২ হাজার টাকা এবং পুরো অর্থই সরকারি তহবিল (জিওবি) থেকে ব্যয় করা হবে। বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে অক্টোবর ২০২৬ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৯।
ব্যয়ের বড় অংশ নির্মাণে : প্রকল্পের ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট বরাদ্দের ২৮৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, অর্থাৎ ৯৩.২৪ শতাংশ, ব্যয় হবে নির্মাণ ও পূর্ত কাজে। এর মধ্যে নতুন ভবন নির্মাণ, আবাসিক সুবিধা সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে আসবাবপত্রে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা, শিক্ষা ও শিক্ষণ উপকরণে ৪ কোটি ১১ লাখ টাকা, অফিস সরঞ্জামে ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং বিছানাপত্র কেনায় ১ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
৫২৫০ বিছানাপত্রের গড় দাম ৩৩৪৪ টাকা : প্রকল্পের একটি উল্লেখযোগ্য ব্যয় ধরা হয়েছে বিছানাপত্র ক্রয়ে। নথি অনুযায়ী ৫২৫০টি বিছানাপত্র কেনা হবে, যার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সে হিসাবে প্রতিটি বিছানাপত্রের গড় মূল্য দাঁড়ায় ৩৩৪৪ টাকা। এ ছাড়া প্রকল্পে ৪৩৬৪টি আসবাবপত্র, ৮৪০টি শিক্ষা ও শিক্ষণ উপকরণ এবং ৯৩টি অফিস সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হবে।
কী বদলাবে তিন বিভাগে : প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীর বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে নতুন আবাসিক ভবন, উন্নত শ্রেণিকক্ষ, প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। চট্টগ্রামের রৌফাবাদে ২০০ আসনের হোস্টেল নির্মাণের মাধ্যমে আবাসন সংকটও অনেকটা দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আবাসন নিশ্চিত করা এবং তাদের কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা। একই সঙ্গে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩’ বাস্তবায়নেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।
কমিশনের পর্যবেক্ষণ : পরিকল্পনা কমিশন মনে করছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও আবাসিক সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হবে। এর ফলে তারা আরও দক্ষ, কর্মক্ষম ও স্বাবলম্বী নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পাবে। সেই বিবেচনায় কমিশন প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে।
