মাদরাসা-এতিমখানায় পৌঁছে যাচ্ছে বসুন্ধরার ইফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতি বছরের মতো এবারও পবিত্র রমজানে প্রতিদিন বিকালে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানায় বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ইফতারসামগ্রী। দেশের শীর্ষ শিল্প গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের পক্ষ থেকে ইফতারের প্যাকেট তুলে দেওয়া হচ্ছে রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক ও ছিন্নমূল মানুষের হাতেও। প্রথম রোজায়ই ১৮ হাজারের বেশি মানুষের মাঝে ইফতারসামগ্রী বিতরণ করা হয়। পরবর্তীতে চাহিদার সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে এর পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল সন্ধ্যায় সরেজমিন ইফতারের আগ মুহূর্তে নতুন বাজার এলাকার জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায়, বসুন্ধরা গ্রুপের পাঠানো ইফতারসামগ্রী পরিবেশনে ব্যস্ত সময় পার করছে মাদরাসার ছোট-বড় শিক্ষার্থীরা। সারিবদ্ধভাবে প্রত্যেক রোজাদারের জন্য রাখা হয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বক্স ইফতারসামগ্রী ও ৫০০ মিলি পানির বোতল। মাদরাসার শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ইফতারে যোগ দিয়েছেন পথচারী, আশপাশের অনেক দোকানদার ও শ্রমজীবী মানুষ। মাদরাসার শিক্ষার্থী আরিফ রহমান রাফি চার বছর ধরে এই মাদরাসায় হেফজ পড়ছেন। বড় আলেম হতে চান চাঁদপুরের ছেলে রাফি। বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে পাঠানো ইফতারি পেয়ে খুশি এই শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, প্রথম রোজা থেকে প্রতিদিন বিকালেই বসুন্ধরা গ্রুপ ইফতার দিয়ে যায়। অনেক ইফতার থাকে। অনেক সময় শেষ করতে পারি না। জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী বলেন, আমাদের মাদরাসায় প্রায় ২ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থী আছে। হাফেজ আছেন প্রায় ২ হাজার। রমজানে মাদরাসায় ৪০০ জনের মতো হাফেজ আছেন। অন্যরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তারাবি পড়াতে চলে গেছেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা সহায়তায় এবং নিজেদের ফান্ড থেকে শিক্ষার্থীদের ইফতারি করানো হয়। এর মধ্যে থেকে আমরা বসুন্ধরা গ্রুপকে ৭০০ জনের ইফতারির জিম্মা নিতে বলেছি। তারা প্রথম রোজা থেকেই প্রতিদিন ৭০০ জনের ইফতার পাঠাচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে হাতেগোনা যে কয়জন দানদক্ষিণা করেন তাদের মধ্যে বসুন্ধরা অন্যতম। বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে এত সুন্দর একটি উদ্যোগের জন্য মাদরাসার পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। নিশ্চয়ই এই সোয়াবের কাজের জন্য মহান আল্লাহ তাদের পুরস্কৃত করবেন। এদিকে গতকাল বিকালে বসুন্ধরার মারকাযুল ফিকরিল ইসলামী বাংলাদেশে গিয়ে দেখা যায় ইফতারির আয়োজনে ব্যস্ত সেখানকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। হাজারের বেশি মানুষের আয়োজন। ইফতারির ব্যবস্থা কীভাবে হয় জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বসুন্ধরা গ্রুপ থেকে প্রথম রোজায় ১২০০ জনের ইফতার পাঠানো হয়েছিল। রমজান মাস উপলক্ষে বাইরে থেকে কিছু মেহমান আসায় এখন প্রতিদিন ১৪০০ জনের ইফতার পাঠাচ্ছে। জানা গেছে, বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে রাজধানীর ভাটারা এলাকার জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা, রিকশাচালক, নূরের চালার মাদানিয়া নূরিয়া হাফিজিয়া মাদরাসা, বাড্ডার স্বাধীনতা সরণির দারুল ফুরকান মাদরাসা, খিলক্ষেত এলাকার কুড়িল চৌরাস্তার মাদরাসাতুস সুন্নাহ, কুড়িল জোয়ারসাহারা মহিলা মাদরাসা, খিলক্ষেতের ইসাতুস সুন্নাহ মাদরাসা, মারকাজুল কুরআন ইসলামিয়া মাদরাসা খিলক্ষেত, জামিয়া ইসলামিয়া আবাবিয়া খিলক্ষেত বাজার, হাজি আবদুল মালেক মাদরাসা খিলক্ষেত, জামিয়া আশরাফিয়া বায়তুল কুরআন খিলক্ষেত, জামিয়া কাশেমুল উলুম মাদরাসা কাওলা, দারুল উলুম দর্জিপাড়া মাদরাসা বোট ঘাট, জান্নাতুল বানাত মহিলা মাদরাসা খিলক্ষেত, এমদাদিয়া নূরানিয়া হাফিজিয়া মাদরাসা খিলক্ষেত, তাজিবুল বানাত আদর্শ বালিকা মাদরাসা খিলক্ষেত, বাইতুল উলুম ইসলামিয়া মাদরাসা নামাপাড়া, এসলাহুল উম্মাহ মাদরাসা বটতলা খিলক্ষেত, আবদুল আজিজ রুস্তম আলী নূরানি হাফিজিয়া মাদরাসা, রুস্তম আলী ওবাইয়দিয়া হাফিজিয়া মাদরাসা খিলক্ষেত, এহদাউল উম্মাহ মাদিনাতুল উলুম মাদরাসা, আশকোনা সুন্নিয়া মাদরাসা, শায়খ যাকারিয়া ইসলামিয়া রিসার্স সেন্টার কুড়িল, বসুন্ধরার মারকাযুল ফিকরিল ইসলামী বাংলাদেশ, মাদরাসা মদিনাতুল উলুম, মাদরাসা দারুস সুন্নাহ, হাজি কোমর উদ্দীন মাদরাসা, মাদরাসা সওতুল কুরআন, তালিমুল কুরআন মাদরাসা, শামসুল উলুম মাদরাসা, কালসি মোড়, দারুল এহসান হাফিজুল কুরআন মাদরাসা মিরপুর, আলহাজ আবদুল মালেক মাদরাসা খিলক্ষেতসহ মানিকগঞ্জ, রংপুর, কেরাণীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাদরাসা, এতিমখানা ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে মাসব্যাপী ইফতার বিতরণ করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights