মার্কিন নির্বাচনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে রাশিয়া, দাবি ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের লক্ষ্য করে রাশিয়া অপতথ্য প্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির কংগ্রেসের গোয়েন্দাবিষয়ক কমিটির শীর্ষ দুই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা।

তাদের দাবি, গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ে এ ধরনের প্রচারের তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া বিজ্ঞাপনও রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থা হ্যাক করে ভোটের ফল পরিবর্তনের সক্ষমতা বা এমন কোনো প্রচেষ্টার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তারা।

বুধবার সিনেটের গোয়েন্দাবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট মার্ক ওয়ার্নার ও প্রতিনিধি পরিষদের গোয়েন্দাবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট জিম হাইমস সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। আগামী মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটনের কাছে নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে ব্রিফিং চেয়েছিলেন তাঁরা। তবে বৈঠকের বেশ কিছু তথ্য গোপনীয় হওয়ায় বিস্তারিত প্রকাশ করতে পারেননি আইনপ্রণেতারা।

ওয়ার্নার বলেন, ২০১৬, ২০২০ ও ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচন ঘিরে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যে ধরনের অনলাইন অপতথ্য প্রচারের কথা জানিয়েছিল, এবারও তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, রাশিয়া আগের মতোই ডেমোক্র্যাটদের লক্ষ্যবস্তু করছে। টেক্সাস থেকে সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো এবং জর্জিয়া থেকে পুনর্নির্বাচনে লড়তে যাওয়া সিনেটর জন অসফকে ঘিরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ভুয়া বিজ্ঞাপন ছড়ানোর খবরের কথাও উল্লেখ করেন ওয়ার্নার।

হাইমস বলেন, অপতথ্য প্রচারের লক্ষ্য হলো বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করা এবং ভোটারদের মধ্যে ভোটযন্ত্র ও নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাস ছড়িয়ে দেওয়া। তবে এ বিষয়ে গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ে কী তথ্য পাওয়া গেছে, তার বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি। রাশিয়ার দূতাবাস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। মস্কো অতীতেও মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

চীনের ভূমিকাও আলোচনায়

ব্রিফিংয়ের পর চীনের সম্ভাব্য প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন হাইমস। তবে তাঁর মন্তব্যের জবাবে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস অভিযোগটিকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। বেইজিং অতীতেও মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী অবকাঠামোয় বিদেশি হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ভোটের ফল পরিবর্তনের প্রমাণ নেই বলে জোর দিয়েছেন হাইমস। তাঁর বক্তব্য, বিদেশি প্রভাব বিস্তারের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও নির্বাচনের ফল বদলে দেওয়ার মতো হস্তক্ষেপের সক্ষমতা বা অভিপ্রায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের একাংশের জন্য ভোট দেবেন মার্কিন নাগরিকেরা। নির্বাচনের ফল কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে পারে। রয়টার্স ও ইপসোসের সাম্প্রতিক জনমত জরিপে জাতীয় পর্যায়ে কংগ্রেসের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন রিপাবলিকানদের চেয়ে কয়েক থেকে ১০ শতাংশ পয়েন্টের বেশি দেখা গেছে। এতে প্রতিনিধি পরিষদ এবং সম্ভবত সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার আশা করছে ডেমোক্র্যাটরা।

বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করতে পারেন- এমন আশঙ্কাও জানিয়েছেন ওয়ার্নার ও হাইমস। তাঁদের উদ্বেগ, নির্বাচনী অবকাঠামোয় বিদেশি হ্যাকিংয়ের অভিযোগকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ভোটের ফল পরিবর্তনে বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

সূত্র: রয়টার্স।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights