সুপারসনিক থেকে হাইপারসনিক, ব্রাহ্মসকে নতুন উচ্চতায় নিতে চায় ভারত

অনলাইন ডেস্ক

ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি ব্রাহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকে আরও শক্তিশালী, দ্রুত ও দূরপাল্লার করতে ব্যাপক উন্নয়নকাজ চলছে।

ক্ষেপণাস্ত্রটির ধ্বংসক্ষমতা ও পাল্লা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের একাধিক সংস্করণ তৈরির পরিকল্পনা করছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ব্রাহ্মস অ্যারোস্পেস।

এর মধ্যে রয়েছে হালকা ও বিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্রাহ্মস-এনজি, সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার একটি সম্ভাব্য সংস্করণ এবং হাইপারসনিক ব্রাহ্মস-২।

গত বছর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাতে ব্রাহ্মসের ব্যবহার এবং এর কার্যকারিতা নিয়ে ভারতের দাবির পর ক্ষেপণাস্ত্রটি আন্তর্জাতিক বাজারেও বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদা সামাল দিতে উৎপাদন সক্ষমতা ও সরবরাহব্যবস্থা সম্প্রসারণের উদ্যোগও নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ব্রাহ্মস অ্যারোস্পেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জয়তীর্থ যোশি জানান, ক্ষেপণাস্ত্রটির কার্যকারিতা ও পরিচালনাগত সক্ষমতা উন্নত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি নতুন সংস্করণ তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

ব্রাহ্মস অ্যারোস্পেস হলো ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এবং রাশিয়ার এনপিও মাশিনোস্ত্রোইয়েনিয়ার যৌথ উদ্যোগ। ভারতের ব্রহ্মপুত্র ও রাশিয়ার মস্কভা নদীর নাম মিলিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম রাখা হয়েছে ব্রাহ্মস।

স্থল, সমুদ্র ও পানির নিচের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্র নির্ভুলভাবে দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এর বিভিন্ন সংস্করণ স্থলভিত্তিক উৎক্ষেপণব্যবস্থা, যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা যায়।

গত বছরের সংঘাতে আলোচনায় ব্রাহ্মস
গত বছর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সংঘাতের সময় ব্রাহ্মস নতুন করে আলোচনায় আসে। ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। পরবর্তী সময়ে সংঘাতের মধ্যে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে সামরিক অভিযান চালায়।

ভারতের দাবি, ওই অভিযানে ব্রাহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ ও সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছিল। এসব স্থাপনার মধ্যে মার্কিন নির্মিত এফ-১৬ যুদ্ধবিমান রাখার জন্য ব্যবহৃত হ্যাঙ্গারও ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ভারত আরও দাবি করেছে, সংঘাতের সময় পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্রাহ্মসের কোনও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারেনি। তবে এ দাবির স্বাধীন যাচাই সম্পর্কে সরবরাহ করা প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য নেই।

সংঘাতের পর ক্ষেপণাস্ত্রটির সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহ বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা। এরই মধ্যে কয়েকটি দেশ ব্রাহ্মস কেনার চুক্তি করেছে, আবার আরও কয়েকটি দেশ সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে আগ্রহ দেখিয়েছে।

প্রায় তিন গুণ শব্দের গতিতে ছুটতে পারে ব্রাহ্মস
ব্রাহ্মসের প্রাথমিক সংস্করণটি স্থলভিত্তিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সামরিক প্রয়োজনের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এর পাল্লা, উৎক্ষেপণব্যবস্থা ও আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।

ক্ষুদ্র সংস্করণ ও নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করার উদ্যোগের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্রটির বিভিন্ন সংস্করণে উন্নত উপাদান ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

ব্রাহ্মসের প্রচলিত সংস্করণ শব্দের গতির প্রায় তিন গুণ বেগে চলতে পারে। এতে ২০০ থেকে ৩০০ কেজি ওজনের ওয়ারহেড বহনের সক্ষমতা রয়েছে। প্রাথমিক সংস্করণটির পাল্লা ছিল ২৯০ কিলোমিটার। ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে পরবর্তী সংস্করণগুলোর পাল্লা বাড়ানো হয়েছে।

২০২৩ সালে ভারতীয় বিমানবাহিনী ৪৫০ কিলোমিটার পাল্লার একটি সংস্করণের সফল পরীক্ষা চালায়। ব্রাহ্মস-এ নামে পরিচিত এই সংস্করণটি সুখোই-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমানে বহন করা যায়। ফলে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কাছাকাছি না গিয়েও দূর থেকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা পায় বিমানবাহিনী।

এছাড়া ব্রাহ্মসের ব্লক-৩ স্থল-আক্রমণ সংস্করণটি নিচু দিয়ে উড়ে লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে যেতে পারে। এর ফলে প্রচলিত প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পক্ষে ক্ষেপণাস্ত্রটিকে শনাক্ত ও প্রতিহত করা কঠিন হতে পারে।

আসছে হালকা সংস্করণ ব্রাহ্মস-এনজি
ব্রাহ্মস অ্যারোস্পেসের বর্তমান উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলো ব্রাহ্মস-এনজি। এটি মূল ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় হালকা ও ছোট আকারের হবে এবং বিভিন্ন যুদ্ধবিমানে ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে।

বর্তমানে ব্রাহ্মসের বিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য সংস্করণ বহনে সক্ষম সুখোই-৩০এমকেআই ছাড়াও ভারতের অন্যান্য যুদ্ধবিমানে ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহারের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস হালকা যুদ্ধবিমানও রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সুখোই-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান একসঙ্গে তিনটি ব্রাহ্মস-এনজি ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারবে। এর ফলে একটি বিমানের মাধ্যমে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সম্ভাবনা বাড়বে।

ব্রাহ্মস-এনজিতে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত যন্ত্রাংশের পরিমাণ বাড়ানো এবং উন্নত উপাদান ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে এ সংস্করণের প্রোটোটাইপ বা প্রাথমিক পরীক্ষামূলক মডেল উন্মোচনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

এ প্রকল্প সফল হলে ভারতের যুদ্ধবিমানের বহরে ক্ষেপণাস্ত্রটির ব্যবহার আরও বিস্তৃত হতে পারে। পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের অংশগ্রহণ বাড়ানোর যে লক্ষ্য ভারত নিয়েছে, তা বাস্তবায়নেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

১,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরিকল্পনা
ব্রাহ্মসের পাল্লা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম একটি সংস্করণ তৈরির পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এটি বাস্তবায়িত হলে মূল সংস্করণের ২৯০ কিলোমিটার পাল্লার তুলনায় ক্ষেপণাস্ত্রটির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

তবে দীর্ঘপাল্লার এই সংস্করণ এখনও ধারণাগত পর্যায়ে রয়েছে। এ নিয়ে রুশ অংশীদারের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জয়তীর্থ যোশি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে পাল্লা বাড়ানোর কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া হবে। ক্ষেপণাস্ত্রটির কার্যকারিতা ও পরিচালনাগত সক্ষমতা যাচাই করতে স্থল, সমুদ্র ও আকাশভিত্তিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার সংস্করণ কবে তৈরি হবে বা কবে এটি সামরিক বাহিনীর ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়নি।

হাইপারসনিক ব্রাহ্মস-২ তৈরির ভাবনা
ভবিষ্যতের সামরিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে ব্রাহ্মস অ্যারোস্পেসের। সম্ভাব্য এই প্রকল্পের নাম ব্রাহ্মস-২।

প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো উন্নত নকশা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিশেষ ধরনের উপাদান ব্যবহার করে এমন একটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা, যা শব্দের গতির পাঁচ গুণ বা তারও বেশি গতিতে চলতে পারবে। এ ক্ষেত্রে স্ক্র্যামজেট নামে পরিচিত একধরনের বায়ু-শ্বাসী ইঞ্জিন ব্যবহারের ধারণা রয়েছে।

স্ক্র্যামজেট ইঞ্জিন বায়ুমণ্ডলের বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে জ্বালানি পোড়ায়। ফলে প্রচলিত রকেট ইঞ্জিনের মতো বিপুল পরিমাণ অক্সিডাইজার সঙ্গে বহন করার প্রয়োজন হয় না। তবে হাইপারসনিক গতিতে দীর্ঘ সময় ধরে উড্ডয়ন, তাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষেপণাস্ত্রের কাঠামোগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ।

ব্রাহ্মস-২ এখনও উন্নয়ন-পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। ফলে এর চূড়ান্ত নকশা, পরীক্ষার সময়সূচি এবং সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির সময় সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বাড়ছে আগ্রহ
ব্রাহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের রফতানি বাজারও সম্প্রসারিত হচ্ছে। ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি এ ক্ষেপণাস্ত্র ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশের কাছে বিক্রি হয়েছে। আরও এক ডজনের বেশি দেশ এটি মূল্যায়ন করেছে অথবা কেনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফিলিপাইন ছিল ব্রাহ্মসের প্রথম বিদেশি ক্রেতাদের অন্যতম। ২০২২ সালে দেশটি ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের একটি চুক্তি করে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে ফিলিপাইনের কাছে প্রথম চালান এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে দ্বিতীয় চালান সরবরাহ করা হয়।

চলতি বছরের জুনে ভারত ভিয়েতনামের সঙ্গে ব্রাহ্মস সরবরাহের চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়াও ক্ষেপণাস্ত্রটি সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হয়েছে।

মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, মিসর, চিলি ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ ব্রাহ্মস ব্যবস্থার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তবে আগ্রহ প্রকাশ, প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন এবং চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি এক বিষয় নয়। আগ্রহী সব দেশ যে শেষ পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্রটি কিনবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

উৎপাদন বাড়াতে সরবরাহব্যবস্থা সম্প্রসারণ
ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্রহ্মস প্রকল্পকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির প্রতিরক্ষা খাত দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি অস্ত্র আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। ব্রাহ্মসের মতো যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নত অস্ত্র তৈরি ও রফতানির সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে ভারত।

ক্রমবর্ধমান ক্রয়াদেশের মধ্যে বর্তমানে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর চাহিদা পূরণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ব্রাহ্মস অ্যারোস্পেস। সম্প্রতি ভারত আরও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক ও অগ্নিনিয়ন্ত্রণব্যবস্থা কেনার চুক্তি করেছে, যাতে দেশটির আরও যুদ্ধজাহাজে ব্রাহ্মস মোতায়েন করা যায়।

প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদনকেন্দ্র রয়েছে ভারতের চারটি শহরে- হায়দরাবাদ, নাগপুর, পিলানি ও লক্ষ্ণৌ। পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ প্রযুক্তি উন্নয়নে গবেষণা ও উন্নয়নকেন্দ্রও গড়ে তোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রকে ‘টেক-ব্রিকস’ নামে অভিহিত করা হয়।

উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন ব্যবস্থা ও উপব্যবস্থার জন্য এক বা দুটি সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরতা রয়েছে। সেটি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৪৫টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে অংশীদার করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে এবং সম্ভাব্য বাড়তি চাহিদা পূরণ করা যায়।

অস্ত্র রফতানিতে ভারতের বড় লক্ষ্য
প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিকারক দেশ থেকে বড় অস্ত্র রফতানিকারক হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে অস্ত্র উৎপাদনে দেশীয় প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে দেশটির সরকার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি বার্ষিক ৬৭ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৪০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

ভারত সরকারের লক্ষ্য, ২০২৯ সালের মধ্যে দেশটির বার্ষিক প্রতিরক্ষা উৎপাদন ৩ হাজার ১০০ কোটি ডলারে উন্নীত করা। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি থেকে ৫৫০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ লক্ষ্য পূরণে ব্রাহ্মস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে নতুন সংস্করণগুলোর উন্নয়ন, পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ, উৎপাদন সক্ষমতা এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ওপরই প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করবে। সূত্র: আরটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights