ঠিকানাবিহীন স্টার্লিংকে দেখে খারাপ লাগে টুখেলের

স্পোর্টস ডেস্ক

একসময় ইংল্যান্ড ও ম্যানচেস্টার সিটির আক্রমণভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন রাহিম স্টার্লিং। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে পরিস্থিতি। এখন ক্লাবহীন এই ইংলিশ ফুটবলার মাঠের বাইরেও কঠিন সময় পার করছেন। সাবেক শিষ্যের এমন অবস্থায় খারাপ লাগার কথা জানিয়েছেন ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল।

কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের পর লিভারপুলের যুব দলে বেড়ে ওঠা স্টার্লিংয়ের সিনিয়র ফুটবলে অভিষেক হয় লিভারপুলের জার্সিতে, মাত্র ১৮ বছর বয়সে। ২০১৫ সালে লিভারপুল ছেড়ে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেন তিনি। সেখানেই নিজেকে প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম পরিচিত খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

২০১২ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ইংল্যান্ড জাতীয় দলে অভিষেক হয় স্টার্লিংয়ের। পরবর্তী এক দশকে জাতীয় দলের হয়ে ৮২টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। সিটির হয়ে চারটি প্রিমিয়ার লিগসহ জিতেছেন একাধিক শিরোপা।

২০২২ সালে ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে চেলসিতে যোগ দেন স্টার্লিং। সে সময় চেলসির কোচ ছিলেন টমাস টুখেল, যিনি বর্তমানে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের দায়িত্বে রয়েছেন। তবে লন্ডনের ক্লাবে গিয়ে নিজের সেরা সময়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি স্টার্লিং। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর ইংল্যান্ড দলেও আর জায়গা হয়নি তার।

ক্লাব ফুটবলেও এরপর শুরু হয় তার ঠিকানা বদলের সময়। ২০২৪-২৫ মৌসুমে চেলসি থেকে ধারে আর্সেনালে খেলেন তিনি। পরে পারস্পরিক সমঝোতায় ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে চেলসি ছাড়েন। গত মৌসুমের শেষ কয়েক মাস ধারে ডাচ ক্লাব ফেইনুর্ডে খেলেন স্টার্লিং। বর্তমানে কোনো ক্লাবের সঙ্গেই চুক্তিবদ্ধ নন তিনি।

এর মধ্যেই মাঠের বাইরেও আইনি ঝামেলায় পড়েছেন ৩১ বছর বয়সী এই ফুটবলার। বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো এবং নাইট্রাস অক্সাইড কাছে রাখার কথা স্বীকার করার পর এখন শাস্তির রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।

নেশন্স লিগে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে সাবেক শিষ্যের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন টুখেল। তিনি বলেন, ‘তার জন্য আমার খারাপ লাগে। আমার মনে হয়, ম্যান সিটি ছাড়ার পর থেকেই তাকে ভুগতে হচ্ছে। সেখানে সে ক্যারিয়ারের চূড়ায় ছিল। তার ওই দলবদলের জন্য আমি লড়াই করেছিলাম, কিন্তু সে কখনোই আর নিজের গুরুত্ব বোঝাতে পারেনি ঠিক যেমনটা তার ছিল। ওই সময়ে সেটা তার জন্য বড় এক পদক্ষেপ ছিল।’

টুখের আরও বলেন, ‘তার মতো কাউকে এভাবে ভুগতে দেখতে খারাপ লাগে, কারণ সে সন্তানদের জন্য খুব ভালো এক বাবা এবং একজন পারিবারিক মানুষ, খুব ভালো এক মানুষ। মনে হচ্ছে, সে কঠিন এক সময় পার করছে। আমি জানি না এতে তার নিজের দায় কতটা, কখনও কখনও হঠাৎ করেই জীবনের অদ্ভূত এক মোড়ে পড়ে যেতে হয়, যখন সবকিছুই খারাপ হতে থাকে।’

তবে স্টার্লিংয়ের ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়ে আশাবাদী টুখেল। তিনি বলেন, ‘তার জন্য খারাপ লাগে। তবে আমি সবসময় বিশ্বাস করি, সে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। আমি তাকে শুভকামনা জানাই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights