প্রয়োজনে সব ধরনের সমরাস্ত্র ব্যবহার করা হবে, পশ্চিমাদের পুতিনের হুঁশিয়ারি

অনলাইন ডেস্ক

রাশিয়ার বাল্টিক অঞ্চলের বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড ক্যালিনিনগ্রাদ যদি সরাসরি কোনো আক্রমণের শিকার হয় বা পশ্চিমারা এটিকে অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করে, তবে নিজেদের কাছে থাকা সব ধরনের সামরিক অস্ত্র ব্যবহার করার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ভ্যালদাই ফরেন পলিসি ফোরামে দেওয়া ভাষণে এই কড়া বার্তা দেন তিনি। পুতিন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, মস্কো কাউকে হুমকি দিচ্ছে না এবং ২০২৯, ২০৩০ কিংবা ২০৫০ সালেও কারও ওপর আগ বাড়িয়ে আক্রমণের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই; কিন্তু রাশিয়া যদি সরাসরি সামরিক আগ্রাসনের মুখোমুখি হয়, তবে তার উপযুক্ত ও কঠোর জবাব দিতে তারা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।

ভাষণে পুতিন উল্লেখ করেন, পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন নেতা সম্প্রতি দাবি করছেন যে রাশিয়া ২০২৯ বা ২০৩০ সালের দিকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই ধরনের বক্তব্য এবং বাল্টিক সাগরে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সাম্প্রতিক নৌ মহড়াকে ক্যালিনিনগ্রাদের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। পুতিন সতর্ক করে দিয়ে বলেন, রাশিয়া যদি মনে করে তাদের কোনো ভূখণ্ড সরাসরি আক্রান্ত হচ্ছে, তবে পারমাণবিক অস্ত্রসহ রাশিয়ার হাতে থাকা প্রতিটি অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি অবধারিতভাবেই এবং অবিলম্বে আলোচনার টেবিলে উঠে আসবে।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শক্তিগুলোর কাছে থাকা বিনাশকারী অস্ত্রের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নাটকের মঞ্চের বহুল পরিচিত রূপকের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, মঞ্চের শুরুতে যদি কোনো বন্দুক ঝুলে থাকে, তবে নাটকের শেষে তা নিশ্চিতভাবেই ব্যবহৃত হয়। সেই সাথে তিনি আরও বলেন, ফ্রান্স বা যুক্তরাজ্যের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পর্কে মস্কো পুরোপুরি সচেতন, তবে রাশিয়ার কাছে এমন সব আধুনিক অস্ত্র রয়েছে যা অন্য কারও নেই এবং এটিই মস্কোর বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক সুবিধা।

দীর্ঘ এই বক্তৃতায় পশ্চিমা আধিপত্যের অবসান ঘটার আশা প্রকাশ করে পুতিন বলেন, বিশ্বে আধিপত্য বিস্তারকারী বহুপাক্ষিক কাঠামোর দুর্বলতার সাথেই আন্তর্জাতিক সংঘাতগুলো হয়তো ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসবে।

সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights