বন্যার পানিতে বন্দি শিম্পাঞ্জি, ড্রোনে গেল ফলমূল ও কম্বল
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় প্রবল বর্ষণ ও ভয়াবহ বন্যার কারণে ‘সেভ দ্য শিম্পাঞ্জিস’ অভয়ারণ্যে সৃষ্টি হয়েছে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। ফোর্ট পিয়ার্সে অবস্থিত ১৫০ একরের বিস্তৃত ওই অভয়ারণ্যের বিশাল অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় সেখানে থাকা শিম্পাঞ্জিদের কাছে খাবার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
তবে উদ্ভূত এই সংকট মোকাবিলায় অভয়ারণ্য কর্তৃপক্ষ এক অনন্য উদ্ভাবনী উপায় বেছে নিয়েছে—তারা ড্রোনের সাহায্যে আকাশপথে শিম্পাঞ্জিদের কাছে কলা, ফলমূল ও উষ্ণ কম্বল সরবরাহ করেছে।
ড্রোন থেকে যত্ন সহকারে ফেলা একটি কাগজের ব্যাগ থেকে কালেব নামের একটি শিম্পাঞ্জির কলা খাওয়ার ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ভয়াবহ বন্যায় অভয়ারণ্যের সড়ক ও বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ায় সেখানে কর্মচারীদের যাতায়াত এবং সাধারণ যানবাহন চালানো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। জরুরি প্রটোকল চালু থাকলেও কোনো গলফ কার্ট বা চার চাকার সাধারণ যানবাহন দিয়ে শিম্পাঞ্জিদের আবাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে বন্যার পানি কমার জন্য অপেক্ষা না করে কর্মীরা নিজেরাই উদ্যোগ নেন এবং উড়ন্ত ড্রোন ব্যবহার করে উদ্ধারকৃত শিম্পাঞ্জিদের পুষ্টিকর খাবার ও অন্যান্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ড্রোনের মাধ্যমে কালেব যেমন তাজা কলা পেয়ে আনন্দিত হয়েছে, তেমনি অন্য একটি দৃশ্যে দেখা গেছে ড্রোনে পাঠানো একটি কম্বলের ওপর এক শিম্পাঞ্জি শান্তভাবে শুয়ে আরাম করছে, আর তার পাশে থাকা অন্য শিম্পাঞ্জি সঙ্গীটি যত্ন নিয়ে তার কান থেকে পোকা বেছে দিচ্ছে।
অভয়ারণ্যের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আনা পাওলা তাভারেস নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, এই আকস্মিক বন্যা কর্মচারীদের জন্য এক চরম চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, অভয়ারণ্যের সমস্ত শিম্পাঞ্জি পুরোপুরি নিরাপদ রয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, শিম্পাঞ্জিরা উঁচু স্থানে তৈরি দ্বীপ ও বিশেষ কেয়ার হাউসে বসবাস করায় তারা সরাসরি বন্যার ঝুঁকিতে পড়েনি। কিন্তু পুরো এলাকাজুড়ে স্থায়ীভাবে পানি জমে থাকার কারণে কর্মীদের পক্ষে কর্মস্থলে আসা এবং দৈনন্দিন পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করা মারাত্মক কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ওই ভিডিওটির ক্যাপশনে ‘সেভ দ্য শিম্পাঞ্জিস’ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, আশ্রয়ের শিম্পাঞ্জিরা নিরাপদ থাকলেও এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর অভয়ারণ্যটির পুনর্গঠনে জরুরি সাহায্যের প্রয়োজন। প্লাবনের কারণে সেখানকার অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং সেগুলোতে নতুন করে সারফেসিংয়ের কাজ করা দরকার। এ ছাড়া বিভিন্ন ভবনের ছাদ মেরামত, ছাতা অপসারণ বা মোল্ড দূরীকরণ এবং বেশ কয়েকটি যানবাহন ও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক গলফ কার্ট, একটি চার চাকার ড্রাইভ গাড়ি এবং একটি বড় ওয়াক-ইন কুলারের কম্প্রেসর।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ চূড়ান্তভাবে হিসাব করা হবে এবং অভয়ারণ্যটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট
