‘বিগত আমলে চামড়াশিল্পের অধঃপতন হয়েছে, নতুন করে জাগিয়ে তুলতে চায় সরকার’
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
বিগত সরকারের আমলে দেশের চামড়াশিল্পের চরম অধঃপতন হয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ বলেছেন, বর্তমান সরকার এ শিল্পকে আবার নতুন করে জাগিয়ে তুলতে চায়। চামড়া খাতের সমস্যা সমাধানে অতীতে অনেক সময় নষ্ট হয়েছে, বিসিক এখন আর কোনো সময় নষ্ট করতে চায় না।
মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিসিক আয়োজিত ‘জব অ্যান্ড ক্যারিয়ার ফেয়ার’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিসিক চেয়ারম্যান জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামের পরিবেশ সুরক্ষা ও নগরগুলোকে বাসযোগ্য করতে চামড়া, প্লাস্টিক ও মুদ্রণশিল্পের মতো কারখানাগুলো পরিকল্পিত বিসিক শিল্প পার্কে স্থানান্তরের কাজ চলছে। বর্তমানে দেশে গ্যাসের সংকট থাকায় দেশীয় কাঁচামালনির্ভর শিল্প গড়ে তোলা এবং পণ্যের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে বিসিক। প্রতি মাসে দেশীয় পণ্যের বাজারজাতকরণে মেলা আয়োজনের পাশাপাশি আগামী ডিসেম্বরে বড় পরিসরে একটি মেলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
জব ফেয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। মেলায় আসা তরুণদের তাৎক্ষণিকভাবে একাধিক পদে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, বেকারত্ব নিরসন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিসিকের এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তরুণ উদ্যোক্তা ও চাকরিপ্রার্থীদের সহযোগিতায় সিডিএ পাশে থাকবে।
দি চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯২ শতাংশ পরিচালনাকারী চট্টগ্রাম বন্দরের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্প বিকাশে সরকারি-বেসরকারি যৌথ প্রয়াস প্রয়োজন। বিসিকের কর্মসংস্থানমূলক কার্যক্রমে চেম্বার যুক্ত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিসিকের পরিচালক (প্রশাসন) মুহম্মদ কামরুজ্জামান, চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎমিলা ফরিদ, বিসিক চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পরিচালক খালেদ মাহমুদ এবং স্বাগত বক্তব্য দেন উপমহাব্যবস্থাপক এস এম আলকাদেরী। বক্তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের সমন্বয় ঘটিয়ে তরুণদের আইটি ও কারিগরি দক্ষতায় দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
