বিশ্বমঞ্চে অনন্য ব্র্যান্ডিং
নিজস্ব প্রতিবেদক
যুক্তরাষ্ট্রের নেবরাস্কার এক নির্বাচনি জনসভায় কথা বলছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরনে তাঁর গাঢ় নীল রঙের ঝকঝকে স্যুট। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি স্যুটের বোতাম খুললেন। স্যুটের ভিতরের অংশ তখন জনসম্মুখে স্পষ্ট। ভেসে ওঠে পোশাকের লেবেল। লেখা দেখা যায়, বিখ্যাত আমেরিকান ব্র্যান্ড জোস এ ব্যাংক। ঘটনা এখানেই শেষ নয়। আলোচনায় তখন জনসভা থেকেও প্রধান হয়ে ওঠে ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্যুট। কোন দেশের স্যুট বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি দেশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যবহার করেন।
জোস এ ব্র্যান্ডের স্যুট পরে নির্বাচনি সমাবেশে ট্রাম্পের উপস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদনও করেছে মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস। সেই প্রতিবেদনেও বলা হয়, জোস এ ব্যাংক সাধারণত চীন ও বাংলাদেশ থেকে স্যুট তৈরি করে। এর পরেই উঠে আসে বাংলাদেশের নাম। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ইউনিভার্সাল ম্যানসওয়্যার জোস এ ব্যাংক ব্র্যান্ডের জন্য ছয় থেকে সাত বছর ধরে স্যুট তৈরি করে। প্রতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানটির কাছে ১০ হাজার পিসের বেশি স্যুট রপ্তানি করে ইউনিভার্সাল ম্যানসওয়্যার। নারায়ণগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের কারখানায় তৈরি হয়েছে এই বিশেষ পোশাক। সেখানে দিনরাত পরিশ্রম করেন হাজারো মেহনতি কারিগর। তাঁদের হাতের সুচ-সুতোতেই রূপ পেয়েছে আন্তর্জাতিক মানের এই স্যুট। বিশ্বমঞ্চে এটি কেবল ট্রাম্পের পরা একটি পোশাক নয়। এটি মূলত ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের সক্ষমতার এক নতুন বার্তা। ট্রাম্পের পরা স্যুটটি বাংলাদেশেই তৈরি বলে জানিয়েছেন ইউনিভার্সাল ম্যানসওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ জহির। তিনি বলেন, এটি কোম্পানির দক্ষ শ্রমিক এবং দেশের পোশাকশিল্পের জন্য একটি গৌরবের বিষয়। একজন ধনী মার্কিন প্রেসিডেন্টকে একটি বাংলাদেশি তৈরি স্যুট পরিহিত অবস্থায় দেখা যাওয়া দেশের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং খরচ-সাশ্রয়ী উৎপাদনেরই প্রতিফলন।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক এই পরিচালক বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের আমলের শুল্ক কাঠামোও নতুন সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। প্রধান প্রতিযোগী ভিয়েতনামের তুলনায় বাংলাদেশের শুল্ক হার মাত্র ১ শতাংশের মতো বেশি। তাই কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো দূর করতে পারলে এই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে আমরা এখনো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারব।
অনন্ত গ্রুপের এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রবন্দর না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পৌঁছাতে প্রায় ৩০ দিন সময় লাগে এবং কাস্টমস ছাড়পত্র পেতে আরও কিছুটা সময় অতিরিক্ত ব্যয় হয়। ভিয়েতনাম এবং মিসরের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীরা যুক্তরাষ্ট্রে অনেক দ্রুত পণ্য পাঠাতে পারে। তাই লিড টাইম কমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
