যত দিন পৃথিবী থাকবে ছাপা পত্রিকা টিকে থাকবে
নিজস্ব প্রতিবেদক
সংবাদপত্র হকার্স কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সার্কুলেশন ম্যানেজার জালাল আহমেদ জেহাদি বলেছেন, ‘দেশের গণমাধ্যম ডিজিটাল হয়েছে, অনলাইন, মাল্টিমিডিয়ার প্রতি অনেকে ঝুঁকে পড়েছেন। তবে ছাপা পত্রিকার চাহিদা কখনো শেষ হবে না। কারণ এখনো অনেক মানুষ ঘুম থেকে উঠেই পত্রিকা দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে। পত্রিকা পড়ার পর তারা সকালের নাশতা করেন। যত দিন পৃথিবী টিকে থাকবে, তত দিন ছাপা পত্রিকা টিকে থাকবে। পত্রিকা বাজারে চলে প্রকাশিত নিউজের ভিত্তিতে। যে পত্রিকায় ভালো খবর প্রকাশিত হয় সেই পত্রিকা পাঠকের চাহিদার শীর্ষে থাকে। পাঠক না চাইলে পত্রিকা বিক্রি করা অসম্ভব। বাংলাদেশ প্রতিদিন খুঁজে খুঁজে চান পাঠক। বাজারে অনেক পত্রিকা আছে যেগুলোর জন্য অনেক উপঢৌকন দেওয়া হয় অনেককে, কিন্তু সেই পত্রিকাগুলো পাঠক কিনতে চান না। পত্রিকা চাহিদার শীর্ষে থাকার জন্য ভালো খবর প্রকাশের বাইরে অন্য কোনো মেকানিজম নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতিদিনে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন আয়োজন থাকায় বিভিন্ন স্তরের পাঠক দখল করেছে এ গণমাধ্যম। এ পত্রিকা প্রিন্ট ভার্সনের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমেও বেশ ভালো করছে। যেকোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকার অনলাইনে নিউজটি পাওয়া যাচ্ছে। এতে পত্রিকাটির পাঠক বাড়ছে দিনে দিনে।’ গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আগে ছাপা পত্রিকার সংখ্যা ছিল হাতেগোনা ৮ থেকে ১০টি। কিন্তু বর্তমানে জাতীয় পত্রিকার সংখ্যা শতাধিক। পত্রিকার সংখ্যা যে হারে বেড়েছে সে হারে পাঠকের সংখ্যা বাড়েনি। এ কারণে অনেক ছাপা পত্রিকা চ্যালেঞ্জে পড়েছে। এজন্য বাজারে ভালো অবস্থান নিয়ে টিকে থাকতে মানসম্মত বিশেষ নিউজের বিকল্প নেই। দিনে দিনে ইন্টারনেট জগতের দাপট বাড়ছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে মোবাইলেই এখন তাৎক্ষণিকভাবে খবর জানতে পারছে মানুষ। অনেকেই এখন খবরের জন্য পরদিনের পত্রিকার জন্য অপেক্ষা করেন না। তবে এক্সক্লুসিভ নিউজগুলো অনেক আগ্রহ নিয়ে পড়েন পাঠক। তাই যেসব পত্রিকা এক্সক্লুসিভ সংবাদ দিতে পারবে না সেই পত্রিকাগুলো পাঠক হারাবে। আর এক্সক্লুসিভ নিউজ ছাপানো পত্রিকাগুলোর পাঠকপ্রিয়তা বাড়বে। তবে অনেক টেলিভিশন চ্যানেলে রাত ১২টায় পরদিনের পত্রিকায় কী কী এক্সক্লুসিভ খবর প্রকাশিত হবে সেটিও জানিয়ে দিচ্ছে। এটিও ছাপা পত্রিকার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। তবু পত্রিকার জন্য পাঠকের অপেক্ষা থাকে। পাঠক খবর জানার পাশাপাশি খবরের ভিতরের খবর জানতে চান। তাই পত্রিকায় বিচার-বিশ্লেষণধর্মী খবর থাকতে হবে। নাগরিকের দুর্ভোগ, ভোগান্তির খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করতে হবে। পাঠক যা জানতে চান সেই খবরে প্রাধান্য দিতে হবে।’
