যুক্তরাষ্ট্রে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘ইসাইয়াস’, আঘাত হানতে পারে যেসব অঞ্চলে
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলীয় গালফ উপকূলের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছে শক্তিশালী হারিকেন ‘ইসাইয়াস’। ঘণ্টায় ১৬৮ কিলোমিটার (১০৫ মাইল) বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়া এই ঝড় এরই মধ্যে ২০২৬ সালের আটলান্টিক মৌসুমের প্রথম হারিকেন হিসেবে শক্তি সঞ্চয় করেছে। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের পাশাপাশি আকস্মিক বন্যার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে ‘ইসাইয়াস’ স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে। ঝড়টির প্রভাবে গালফ উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় ৭৫ থেকে ১৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোনো কোনো অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ ২৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। এতে উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাস এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এবারের আটলান্টিক হারিকেন মৌসুমে এখন পর্যন্ত তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করেছে। শক্তিশালী ‘এল নিনোর’ প্রভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯০৫ সালের ৮ অক্টোবরের পর এবারই প্রথম মৌসুমের প্রথম হারিকেন এত দেরিতে সৃষ্টি হলো।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ২টার সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, ‘ইসাইয়াসের’ একটানা বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৬৮ কিলোমিটারেই (১০৫ মাইল) রয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শুক্রবার সাময়িকভাবে হারিকেনটি ক্যাটাগরি ৩-এর শক্তিতে পৌঁছাতে পারে। পরে এর শক্তি কিছুটা কমে গেলেও গভীর রাতে স্থলভাগে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থলভাগে পৌঁছানোর আগে ঝড়টি দুর্বল হয়ে পড়লেও বিপদ পুরোপুরি কাটছে না। ‘ইসাইয়াসের’ প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় বিপজ্জনক জলোচ্ছ্বাস, শক্তিশালী বায়ুঝড় এবং ভারী বৃষ্টির কারণে বন্যা দেখা দিতে পারে। ফলে ঝড়টির গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।
