রংপুরে অটোরিকশা চুরির অভিযোগে গণপিটুনি, দুইজনের মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় অটোরিকশা চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের উত্তরপানাপুকুর গিরিয়ারপাড় এলাকার তিস্তা বড় সেচ ক্যানেলের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন, নোহালী ইউনিয়নের বাগডহরা এলাকার এন্তাজ মিয়ার ছেলে রেজাউল ওরফে কানা (৪২) এবং কোলকোন্দ ইউনিয়নের আইয়ুব আলীর ছেলে সাদিকুল ইসলাম (৩২)।
এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ লাশ নিতে থানায় যোগাযোগ করেননি। পরিবারের কেউ মামলা না করায় স্থানীয় চৌকিদার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় মামলা করেছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর জানান, নিহত রেজাউলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরিসহ নয়টি মামলা রয়েছে। সাদিকুল ইসলামের বিরুদ্ধেও তিনটি মামলা রয়েছে। এ কারণে হয়তো তাঁদের পরিবারের সদস্যরা লাশ গ্রহণ করতে চাইছেন না। পরিবার লাশ গ্রহণ না করলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমান সোহেল রোববার ভোরে তাঁর অটোরিকশা রাখার ঘরে শব্দ শুনতে পান। ঘর থেকে বেরিয়ে দেখেন, চোর তাঁর অটোরিকশাটি নিয়ে যাচ্ছে।
এ সময় পাশের মসজিদে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করছিলেন। সোহেলের চিৎকার শুনে কয়েকজন মুসল্লি মসজিদ থেকে বেরিয়ে অটোরিকশাটির পিছু নেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের আটক করতে না পেরে মসজিদের মাইকে অটোরিকশা চুরির বিষয়টি ঘোষণা করা হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারাও বেরিয়ে অটোরিকশাটির খোঁজে ধাওয়া করেন।
প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে তিস্তা সেচ ক্যানেল এলাকায় অটোরিকশাটি রেখে ধানখেতের মধ্য দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন রেজাউল ও সাদিকুল। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাঁদের ঘিরে ধরে মারধর করেন। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।
অটোরিকশার মালিক সোহেল বলেন, মধ্যরাতে বাথরুমে যাওয়ার সময়ও তিনি অটোরিকশাটি দেখেছিলেন। পরে মেয়েকে ঘুম পাড়ানোর সময় অটোরিকশা রাখার ঘরে শব্দ শুনতে পান। কিছুক্ষণ পর তাঁর স্ত্রী জানান, অটোরিকশাটি চোর নিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বারান্দা দিয়ে বের হয়ে অটোরিকশাটি ধরে রাখার চেষ্টা করলে চোর তাঁকেসহ সেটি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে তিনি অটোরিকশা ছেড়ে চিৎকার শুরু করেন। তখন মসজিদের মুসল্লিরা বের হয়ে চোরদের ধাওয়া দেন। এ সময় মাটিতে পড়ে তাঁর হাঁটুর চামড়া উঠে যায়। পরে তিনি জানতে পারেন, তাঁদের বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে ক্যানেলের পাশে গণপিটুনিতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
ওসি আব্দুস ছবুর আরও জানান, নিহত দুজনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে লাশ গ্রহণের বিষয়ে আগ্রহ দেখা যায়নি। স্থানীয় চৌকিদারের করা মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি জানান, রেজাউলের বিরুদ্ধে গঙ্গাচড়া থানায় ছয়টি, পরশুরাম থানায় একটি, তারাগঞ্জ থানায় একটি এবং হাজীরহাট থানায় একটি—মোট নয়টি মামলা রয়েছে। সাদিকুলের বিরুদ্ধে রয়েছে তিনটি মামলা। গণপিটুনিতে দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
