নিউল্যান্ডসে অজিদের জন্য ব্যাট-বলের চেয়ে বড় পরীক্ষা
অনলাইন ডেস্ক
নিউল্যান্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষে টেস্টে মাঠে নামছে অস্ট্রেলিয়া। এই মাঠটি অজিদের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায়ের সাক্ষী। অনেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারের জন্যই এই লড়াইটি কেবল দক্ষতার নয়, বরং মানসিক শক্তিরও পরীক্ষা হতে পারে।
বিশেষ করে সাবেক অধিনায়ক স্টিভ স্মিথের জন্য এটি আরও বেশি সত্য, যিনি ২০১৮ সালের ‘স্যান্ডপেপারগেট’ বল-ট্যাম্পারিং কেলেঙ্কারির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। বর্তমান অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, পেসার জশ হ্যাজলউড এবং স্পিনার নাথান লায়ন ওই সময়ে দলের সদস্য ছিলেন। তবে তাদের দাবি, স্যান্ডপেপার ব্যবহার করে বলের অবস্থার পরিবর্তনের সেই প্রচেষ্টার বিষয়ে তারা কিছুই জানতেন না।
আট বছর আগে সেই ঘটনায় সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি সামলাতে হয়েছিল স্মিথকেই। বর্তমান সফরে ব্যাটার হিসেবে তার পারফরম্যান্স প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি—গড় ২০-এর সামান্য বেশি। তাই এই ম্যাচটিকে তিনি নিজের ফর্ম ফিরে পাওয়ার উপযুক্ত সুযোগ হিসেবেই দেখছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় এখন পর্যন্ত ‘স্যান্ডপেপারগেট’ নিয়ে খুব একটা আলোচনা শোনা যায়নি।
তবে নিউল্যান্ডসে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। ডারবান ও গেবেরহাতে অনুষ্ঠিত প্রথম দুটি টেস্টে দর্শক উপস্থিতি কম থাকলেও, নিউল্যান্ডসে প্রথম তিন দিনের টিকিটের চাহিদা বেশ ভালো। স্মিথ সম্পর্কে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ট্র্যাভিস হেড বলেন, সে ঠিকঠাক সামলে নেবে। ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডে সে তা প্রমাণ করেছে। আমরা তাকে সমর্থন করি। অতীতে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়ার পরও সে দারুণভাবে তা সামলেছে। বরং এমন পরিস্থিতিতেই অনেক সময় তার সেরাটা বেরিয়ে আসে, যা আমরা আগেও দেখেছি।
তিন ম্যাচে টেস্ট সিরিজটি এখন ১-১ সমতায় রয়েছে, যেখানে প্রথম দুটি ম্যাচে উভয় দলই বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারি রবিবার সাংবাদিকদের জানান, নিউল্যান্ডসের পিচটি আবারও একটি ভালো টেস্ট ম্যাচ উপহার দেওয়ার মতো মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, ম্যাচ শুরু হতে এখনো কয়েক দিন বাকি, তবে পিচটি দারুণ মনে হচ্ছে।
নিউল্যান্ডসে অক্টোবর মাসে আগে কখনো কোনো টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। নভেম্বর মাসে হয়েছে মাত্র তিনটি টেস্ট, যার সবগুলোই ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ১৯০২ ও ১৯২১ সালে সফরকারী দল প্রথম দুটি ম্যাচে জয়লাভ করেছিল। তবে নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ম্যাচটিতে ২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা আট উইকেটে জয় পায়। সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৪৭ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল, যা বেশ আলোচিত একটি ঘটনা ছিল।
দ্বিতীয় টেস্টে কুঁচকির চোটে পড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা দলে পাচ্ছেন না ফাস্ট বোলার এনরিখ নর্কিয়াকে। অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা জানিয়েছেন, তার বদলি খেলোয়াড় নির্বাচনের ক্ষেত্রে তারা পরিস্থিতির চাহিদাকেই প্রাধান্য দেবেন। প্রোটিয়া অধিনায়ক বলেন, আমাদের হাতে জেরাল্ড, প্যাটো ও করবিন বশ-এর মতো খেলোয়াড়রা আছেন, এছাড়া সেন (সেনুরান মুথুসামি)-ও রয়েছেন। সেক্ষেত্রে আমাদের কাছে বেশ কিছু বিকল্প আছে। আমরা যাকে-ই বেছে নিই না কেন, আমাদের পূর্ণ আস্থা থাকবে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য তিনিই আমাদের সেরা একাদশের অংশ হওয়ার যোগ্য।
