শরতের সন্ধ্যায় শিল্পকলায় তিন নাটক
সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক
শরতের সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার তিন মিলনায়তনে সোমবার মঞ্চায়ন হলো তিনটি নাটক। এর মধ্যে জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে মঞ্চায়ন হয় দৃশ্যপট প্রযোজিত নাটক ‘সক্রেটিসের জবানবন্দি’, পরীক্ষণ থিয়েটার হলে মঞ্চায়ন হয় ‘জামাই ডট কম’ ও স্টুডিও থিয়েটার হলে মঞ্চায়ন হয় স্বপ্নদল প্রযোজিত একক নাটক ‘হেলেন কেলার’।
প্রাচীন গ্রিসের বিখ্যাত দার্শনিক ও নাট্যকার প্লেটোর ‘সক্রেটিস এপোলজি’ রচিত ও শিশির কুমার দাশ রূপান্তরিত এই নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন আলী মাহমুদ। মূলত দার্শনিক সক্রেটিসের বিচার ও আত্মপক্ষ সমর্থনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে নাটকটি। এর মূল বিষয় হলো সত্য, ন্যায়, বিবেক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সঙ্গে একজন মুক্তচিন্তার মানুষের সংঘাত। এথেন্সের নাগরিক সক্রেটিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে—তিনি তরুণদের বিপথে পরিচালিত করছেন এবং প্রচলিত দেব-দেবীর প্রতি অবিশ্বাস সৃষ্টি করছেন। তাকে আদালতে হাজির করা হয়। বিচারের সময় সক্রেটিস নিজের অপরাধ স্বীকার না করে যুক্তি ও প্রশ্নের মাধ্যমে অভিযোগকারীদের বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি বলেন, তিনি কাউকে বিপথে পরিচালিত করতে চাননি বরং মানুষকে নিজের অজ্ঞতা সম্পর্কে সচেতন করতে এবং সত্য অনুসন্ধান করতে উৎসাহিত করেছেন।
নাটকের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হলো- সক্রেটিস জানেন, সত্য কথা বলার কারণে তার মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। তবু তিনি নিজের বিশ্বাস থেকে সরে আসেন না। আদালতে তিনি ক্ষমা চেয়ে জীবন বাঁচানোর পথও বেছে নেননি বরং বলেন, অন্যায়ভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে মৃত্যুবরণ করাই শ্রেয়। শেষ পর্যন্ত আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। কিন্তু মৃত্যুর মুখেও সক্রেটিসের অবস্থান বদলায় না। তিনি সত্য ও বিবেকের কাছে নিজেকে দায়বদ্ধ মনে করেন। এভাবেই এগিয়ে যায় নাটকটির কাহিনি।
এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন দৃশ্যপট-এর নিয়মিত নাট্যকর্মীরা।
এর আগে, বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে অধ্যাপক ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, বামং খিয়াং মিংলেন ও দোলন ভৌমিকসহ এই তিন শিক্ষককে দৃশ্যপট সম্মাননা প্রদান করা হয়।
একই সময়ে জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ ‘জামাই ডট কম’-এর কাহিনি গড়ে উঠেছে হাসির আড়ালে মানবিক গল্প নিয়ে। জুয়েল কবির রচিত এই নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন হাফিজুর রহমান সুরুজ। দুই অদ্ভুত মানুষ, ভুল বোঝাবুঝি, চাকু, জিম্মি এবং প্রেম, বিবাহ ও অবিশ্বাস—মিলিয়ে এটি ছিল একটি হাসির নাটক। কিন্তু সেই হাসির আড়ালে ধীরে ধীরে উঠে আসে মানুষের একাকিত্ব, ভালোবাসার দাবি, প্রত্যাখ্যাত হওয়ার বেদনা এবং সবচেয়ে বড় কথা- ‘স্বাভাবিক’ আর ‘অস্বাভাবিক’ বলে সমাজে যে দেয়াল তৈরি হয় তার সত্যতা।
এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন- তাবেদার ই রসুল চান্নু, নূর-ই-আলম সুমন, উত্তম অধিকারী, আজরা জেবিন তুলি, নাসরিন গীতি, রওশন জান্নাত রুশনী, ইনতিশা তাশদীদ তাহা, নাসরিন গীতি, বিন্দু সুমন রোজারিও, কামরুল হাসান, হিমেল ইসহাক, তানভীর আহমেদ, রফিকউল্লাহ সেলিম, হাফিজুর রহমান সুরুজ, এইচ এম আমিন, ওলিউল আজম তৈমুর ও শীলন চৌধুরী প্রমুখ।
অন্যদিকে, একই সময়ে জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ স্বপ্নদল প্রযোজিত একক নাটক ‘হেলেন কেলার’-এর কাহিনি বিন্যস্ত হয়েছে বিশ্বের বিস্ময়কর নারী হেলেন কেলারের জীবন-কর্ম-স্বপ্ন-সংগ্রাম-দর্শনকে উপজীব্য করে।
অপূর্ব কুমার কুন্ডু রচিত ও জাহিদ রিপন নির্দেশিত এই নাটকটিতে একক অভিনয় করেছেন জুয়েনা শবনম।
