শান্তি আলোচনার বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে: ইরান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে কাতার, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। গতকাল রবিবার দোহায় কাতারের মধ্যস্থতায় টানা তৃতীয় দিনের মতো বৈঠক করেন ইরানি প্রতিনিধিরা।
এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং নিজেদের দাবি পূরণ না হলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনার বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে।
সোমবার (২ নভেম্বর) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘গত দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্র কেবল কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়নি, বরং সক্রিয়ভাবে কূটনৈতিক প্রক্রিয়াগুলোও বাধাগ্রস্ত করেছে।’
তিনি বলেন, ‘আলোচনার ক্ষেত্রে ইরানের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হবে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রকৃত আচরণ ও বাস্তব পদক্ষেপ। এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। ইরানের দাবিগুলো সম্পূর্ণ স্পষ্ট ও যৌক্তিক।’
বাঘাই আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের বৈধ দাবিগুলো পুরোপুরি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চুক্তি হবে না। একইভাবে হরমুজ প্রণালিও পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না। কিংবা প্রণালির নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হবে না।’
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ১ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দোহায় আলোচনায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, সম্ভাব্য চুক্তির পর দুই দিনের মধ্যে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার একটি প্রস্তাব নিয়ে কাতারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
অন্যদিকে, ইরান চায় যুক্তরাষ্ট্র আগে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করুক। তেহরানের মতে, অবরোধ প্রত্যাহার ও অন্যান্য দাবি পূরণ না হলে চুক্তি এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে অগ্রগতি সম্ভব নয়।
এদিকে আজ টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারে ওয়াশিংটন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা দারুণ এক বিজয় অর্জন করেছি এবং খুব দ্রুতই বিষয়টির সুরাহা করব, যেকোনো একভাবে। হয় তারা কোনো চুক্তি করবে, অথবা আমরা নিজেরাই এর ইতি টানব। ইতি টানা, আমার মনে হয় আপনারা বলতে পারেন, হয়ত সহজ উপায়েই।’
এ সময় তিনি ইঙ্গিত দেন, নতুন কোনো মার্কিন সামরিক অভিযান চালানো হলে তা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সফল ও ভয়ংকর হবে। ফলে কূটনৈতিক যোগাযোগ থাকলেও দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা এখনো কাটেনি।
সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স, টাইমস অব ইসরায়েল
