শিক্ষার্থীরা ক্লাসে, ভিসি ঢাকায়: চুয়েটে রুটিন দায়িত্ব নিতে অনীহা
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে সৃষ্ট সমস্যার মধ্যেই ক্লাসে ফিরেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা যথারীতি ক্লাস-ল্যাবে ফিরেছেন।
অন্যদিকে, চুয়েটের ভিসি অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ই-মেইলে শিক্ষককে রুটিন দায়িত্ব দিতে চাইলেও তারা নিতে অনীহা প্রকাশ করছেন।
চুয়েটের ভিসি বর্তমানে দাফতরিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু কাউছারকে ভিসির রুটিন দায়িত্ব দিয়ে একটি ই-মেইল করেন। কিন্তু তিনি এ দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন।
এর আগে গত শনিবার চুয়েটের তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেনকে। তাকে রুটিন দায়িত্ব দিলে সোমবার শিক্ষার্থীরা একদিনের জন্য কমপ্লিট শাডডাইন কর্মসূচি পালন করেন। ফলে ওইদিন তিনি আর রুটিন দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাননি। এরপর থেকে চুয়েটের উপাচার্য পদে রুটিন দায়িত্ব আর কেউ নিতে রাজি হচ্ছেন না।
অন্যদিকে, পূর্ব ঘোষণা মতে, মঙ্গলবার চুয়েটে ক্লাস শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন ক্লাসে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে একাডেমিক কাজে অংশগ্রহণ করেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও দাফতরিক এবং প্রশাসনিক কাজে অংশগ্রহণ করেছেন।
তবে দাফতরিক কাজে ঢাকায় অবস্থানের কথা জানিয়ে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম অধ্যাপক কাউছারকে রুটিন দায়িত্ব দিয়ে ই-মেইল পাঠান সোমবার।
ই-মেইলে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন, “দাফতরিক কাজে আমি ঢাকায় অবস্থান করব। এমতাবস্থায় আমার অনুপস্থিতিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু কাউছার রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন।”
তবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু কাউছার। তিনি বলেন, “আমাকে জিজ্ঞাসা করে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। উপাচার্য নিজ থেকে একটা ই-মেইল লিখেছেন। মুঠোফোনে উপাচার্যকে দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা জানিয়েছি। ক্যাম্পাসে নিজেকে বিপন্ন করে আমি দায়িত্ব নিতে পারি না।”
চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী গোলাম মুর্শেদ রাতুল বলেন, আমাদের দাবি একটাই- ড. সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও একই দাবিতে আন্দোলন করছেন। এই দাবি আদায়ে আমরা সব পক্ষ এক কাতারে আছি।
চুয়েট শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক সামিউন বাসির বলেন, আমরা সাবেক উপাচার্যের পুনর্বহালের দাবিতে অটল। আশা করি, সরকার দ্রুত সমাধান দেবে। তবে শিক্ষার্থীদের বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা করে আমরা একাডেমিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
চুয়েট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীরা ক্লাসে যোগ দিয়েছেন। আমরাও আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। তবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চুয়েটে অচলাবস্থা চলবে।
প্রসঙ্গত, গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কমপ্লিট শাটডাউন ও অসহযোগ কর্মসূচি পালন করে আসছেন চুয়েটের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
সংকট নিরসনে ইউজিসির গঠিত ছয় সদস্যের পরামর্শক কমিটি গত ২৮ অক্টোবার সকল অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তবে কমিটি এখনও রিপোর্ট প্রকাশ করেনি। শিক্ষা কার্যক্রম কিছুটা স্বাভাবিক হলেও প্রশাসনিক ভবন এখনও তালাবদ্ধ।
