সিলেটে প্রথমবার টেস্ট খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মিরপুরের পরিচিত উইকেটে নাজমুলরা সাদা পোশাক ও লাল বলের টেস্ট খেলতে নেমেছিলেন ফেবারিট হয়ে। অথচ জোমেল ওয়ারিক্যান, রোস্টন চেজ, জশুয়া বিশপের ঘূর্ণিতে বেসামাল হয়ে এক দিন আগেই হেরে গেছে টেস্ট। দুই দেশ ৫ নভেম্বর দ্বিতীয় টেস্ট খেলবে সিলেটে। সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টাইগাররা সপ্তমবারের মতো টেস্ট খেলবে এবং প্রথমবার খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যদিও ক্যারিবীয়রা এর আগে ২০১৮ সালে চা পাতার নগরীতে রঙিন পোশাক ও সাদা বলে ম্যাচ খেলেছে। ওয়ানডে জিতেছিল বাংলাদেশ এবং টি-২০ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিরিজ বাঁচানো ছাড়াও আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলতে হলে সিলেটে জিততেই হবে নাজমুলদের। শুধু সিলেটে জিতলেই হবে না, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরবর্তী চার টেস্টের তিনটিতেই জিততে হবে নাজমুলদের। সিলেট টেস্টের জন্য ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বিসিবি। মুমিনুল হকের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার অমিত হাসান। অমিতের ফেরার টেস্টে সিলেটের উইকেট কেমন আচরণ করবে, এখনো স্পষ্ট নয়। মিরপুরে স্পিন উইকেট বানিয়ে ক্যারিবীয়দের ফাঁদে ফেলার যে পরিকল্পনা করেছিলেন নাজমুলরা, নিজেরাই সেই ফাঁদে আটকা পড়ে হেরেছে ৮ উইকেটে।

অমিত এবারই প্রথম সুযোগ পাননি টেস্টে। চলতি বছরের জুনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টে রান করতে পারেননি তিনি। ফলে অস্ট্রেলিয়া ও আফগানিস্তান সিরিজে সুযোগ পাননি। সিলেটে সুযোগ পেয়েছেন মূলত মুমিনুলের ইনজুরিতে। শর্ট লেগে ফিল্ডিংয়ের সময় মাঠে আঘাত পান সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল। এক সপ্তাহের বেশি মাঠের বাইরে থাকতে হবে সাবেক অধিনায়ককে। সিলেটে অমিত খেলবেন কি না, নিশ্চিত নয়। কিন্তু তাঁর অন্তর্ভুক্তিতে দলে এখন উইকেটরক্ষক চারজন-লিটন দাস, জাকের আলি অনিক, অমিত ও মুশফিকুর রহিম। যদিও মুশফিক এখন আর উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন না। অবশ্য আঙ্গুলের ইনজুরির জন্য মিরপুরে খেলেননি মুশফিক। সিরিজে সমতা ফেরানোর সিলেট টেস্ট খেলতে পারেন ১০৬ টেস্ট খেলা মুশফিক।

মিরপুরে তিন স্পিনার নিয়ে খেললেও প্রতিপক্ষের ওপর কোনোরকমের প্রভাবই ফেলতে পারেননি। প্রথম ইনিংসে তিন স্পিনার তাইজুল, মিরাজ ও নাঈম ৮ উইকেট নেন। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭০ রানের টার্গেট ছুড়েও উইকেট নিতে পারেননি তিন স্পিনার। অথচ তিন ক্যারিবীয় স্পিনার দুই ইনিংসে উইকেট নেন ১৬টি। সিলেটে এখন পর্যন্ত খেলা হয়েছে ৬টি টেস্ট। বাংলাদেশ ৩টি করে জিতেছে ও হেরেছে। সিলেটে টাইগাররা হারিয়েছে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে, আয়ারল্যান্ডকে ইনিংস ও ৪৭ রানে এবং নিউজিল্যান্ডকে ১৫০ রানে। হেরেছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুবার ১৫১ রানে ও ৩ উইকেটে এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩২৮ রানে। এই মাঠে পেসারদের তুলনায় স্পিনারদের সাফল্য সবচেয়ে বেশি। তাইজুল ৬ টেস্টে ৪০টি ও মিরাজ ৪ টেস্টে নেন ২৫ উইকেট। ‘স্পিডস্টার’ নাহিদ রানা খেলছেন না সিরিজে। তিনি সিলেটে ৪ টেস্টে উইকেট নিয়েছেন ১৬টি।

দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশ দল : নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, তাওহীদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, জাকের আলী অনিক, মেহেদী হাসান মিরাজ (সহ-অধিনায়ক), নাঈম হাসান, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, শরীফুল ইসলাম, মুশফিকুর রহিম, তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন চৌধুরী ও অমিত হাসান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights