১০ বিষয়ে ফেল শিক্ষার্থীকে জালিয়াতি করে পাস
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় ১০ বিষয়ে ফেল করা এক শিক্ষার্থীকে জালিয়াতির মাধ্যমে পাস করানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীসহ শিক্ষাবোর্ডের কম্পিউটার সেলের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিব প্রফেসর মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন।
গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর পাঁচলাইশ মডেল থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলার আসামিরা হলেন, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কম্পিউটার সেলের স্ক্যানিং অপারেটর ইমতিয়াজ আহমেদ চৌধুরী (২৮), স্ক্যানিং অপারেটর মো. রাশেদুল ইসলাম (৩০) ও কম্পিউটার অপারেটর (সলভার) নূর হোসেন রায়হান (৩২)।
এছাড়া ১৭ বছর বয়সি এক শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তে শনাক্তযোগ্য অন্য ব্যক্তি ও অজ্ঞাতনামা সহযোগীদেরও এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাঁচলাইশ মডেল থানার ওসি মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড থেকে এসএসসি পরীক্ষার ফল জালিয়াতির অভিযোগে একটি মামলার এজাহার দেওয়া হয়েছে। বাদী বোর্ডের সচিব। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে ওই শিক্ষার্থী। পুনর্নিরীক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের উত্তরপত্রের নম্বরের সঙ্গে শিক্ষাবোর্ডের কম্পিউটার সেল থেকে পাওয়া প্রিন্ট আউটের নম্বরের ব্যাপক পার্থক্য দেখতে পান। বিষয়টি তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানান। পরে বোর্ডের প্রোগ্রামার যাচাই করে নম্বরের গরমিলের সত্যতা পান। এ ঘটনায় বোর্ডের চেয়ারম্যানের নির্দেশে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটি দুজন আইসিটি বিশেষজ্ঞের কারিগরি সহযোগিতায় মূল উত্তরপত্র, পরীক্ষকদের পাঠানো ম্যানুয়াল নম্বর ফর্দ, প্রকাশিত ফলাফল, এমসিকিউ ওএমআর এবং কম্পিউটার সেলের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে। গত ৯ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীর ইন্ধনে এবং কম্পিউটার সেলের সংশ্লিষ্ট তিন কর্মীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় পারস্পরিক যোগসাজশে এ জালিয়াতি করা হয়েছে।
