ইথিওপিয়ায় বাস্তুচ্যুতদের শিবিরে ড্রোন হামলা, নিহত ১৫

অনলাইন ডেস্ক

ইথিওপিয়ার আমহারা অঞ্চলে সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা মানুষের একটি শিবিরে ড্রোন হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচটি শিশু রয়েছে। হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৩৬ জন।

উদ্ধারকাজ ও মরদেহ দাফনের সঙ্গে যুক্ত দুই ব্যক্তির বরাতে রয়টার্স জানায়, শিবিরটিতে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে। এতে বহু মানুষ হতাহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জনকে শিবিরেই দাফন করা হয়। আহত দুজন পরে হাসপাতালে মারা যান।

জারি-২ নামের ওই শিবিরে আগে সংঘাতের কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসা ১ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। হামলায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা। হামলার পর বেঁচে যাওয়া অনেকে কাছের হায়েক শহরের একটি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন।

হামলার কারণ কী এবং কারা এর জন্য দায়ী, তা এখনো স্পষ্ট নয়। রয়টার্সকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলার সময় ওই এলাকায় কোনো লড়াই চলছিল না। তবে বিদ্রোহী জোটের অংশ আমহারা ফানো ন্যাশনাল মুভমেন্টের সদস্যরা ওই এলাকার কাছাকাছি ছিলেন বলে জানা গেছে। হামলার বিষয়ে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের দপ্তরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইথিওপিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী জোটের মধ্যে সংঘাত নতুন করে বেড়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিদ্রোহী জোটের অভিযান শুরুর পর সরকারি বাহিনী তাদের পিছু হটতে বাধ্য করেছে। চলতি মাসের শুরুতে সরকারি বাহিনী টাইগ্রে অঞ্চলের রাজধানী পুনর্দখল করে এবং ইরিত্রিয়ার সীমান্তের দিকে অগ্রসর হয়।

ইথিওপিয়ার অভিযোগ, বিদ্রোহীদের সহায়তা করতে ইরিত্রিয়া সীমান্ত পেরিয়ে সেনা পাঠিয়েছে। তবে ইরিত্রিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটি বলেছে, ইথিওপিয়ার এমন অভিযোগ কার্যত যুদ্ধের হুমকির শামিল।

আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে বিভিন্ন দেশের পারস্পরিক বিরোধ ও সংঘাতে পরস্পরবিরোধী পক্ষগুলোর প্রতি বাইরের শক্তির সমর্থন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইথিওপিয়ার সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

তথ্য সূত্র- রয়টার্স।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights