নতুন বামন গ্রহের সন্ধান, প্লুটো নিয়ে বিতর্ক আবারও সামনে
অনলাইন ডেস্ক
২০০৬ সালে প্লুটোর গ্রহের মর্যাদা বাতিল হওয়ার প্রায় দুই দশক পর সৌরজগতের সুদূর প্রান্তে ‘২০২৬ ইডি১৩৮’ নামের বরফাচ্ছাদিত নতুন একটি সম্ভাব্য বামন গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কারের ফলে একটি মহাজাগতিক বস্তুকে গ্রহ হতে হলে কী কী বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন, সে বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে। চিলির ভেরা সি. রুবিন মানমন্দিরে এই বস্তুটির সন্ধান পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, নতুন এই মহাজাগতিক বস্তুটির ব্যাস ৬০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার হতে পারে এবং এটি সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্বের প্রায় ৪৬ গুণ দূর দিয়ে প্রদক্ষিণ করছে। এটি বামন গ্রহ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার অন্যতম জোরালো দাবিদার।
রুবিন মানমন্দিরের প্রধান সৌরজগৎবিজ্ঞানী মারিও জুরিক আশা করছেন, এটি তাদের অনেক আবিষ্কারের প্রথম ধাপ মাত্র। আরও গবেষণায় এটি বামন গ্রহ হিসেবে নিশ্চিত হলে এটি প্লুটো, সেরেস, এরিস, হাউমেয়া এবং মেকমেকের মতো স্বীকৃত পাঁচটি বামন গ্রহের তালিকায় যুক্ত হবে। মূলত প্লুটোর গ্রহের মর্যাদা হারানোর পর সৌরজগতের শূন্যস্থান পূরণে কাল্পনিক ‘নবম গ্রহের’ সন্ধানের অংশ হিসেবেই এই আবিষ্কার।
১৯৩০ সালে মার্কিন জ্যোতির্বিদ ক্লাইড টমবাউ প্লুটো আবিষ্কার করেন এবং দীর্ঘদিন এটি নবম গ্রহ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু ২০০৫ সালে এরিসের আবিষ্কারের পর আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন (আইএইউ) গ্রহের নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করে। ২০০৬ সালে নির্ধারিত সেই সংজ্ঞা অনুযায়ী, একটি গ্রহকে অবশ্যই সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে হবে, গোলাকার হওয়ার মতো পর্যাপ্ত ভর থাকতে হবে এবং নিজের কক্ষপথের আশপাশের অন্যান্য বস্তুকে সরিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে।
প্লুটো প্রথম দুটি শর্ত পূরণ করলেও তৃতীয়টিতে ব্যর্থ হয়। কারণ প্লুটো তার কক্ষপথে মহাকর্ষীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। এটি অন্যান্য অনেক বরফাচ্ছাদিত বস্তুর সঙ্গে অবস্থান করছে। আইএইউ-এর সংজ্ঞা অনুসারে, বামন গ্রহগুলোও সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে এবং গোলাকার হয়, কিন্তু তাদের কক্ষপথ পুরোপুরি পরিষ্কার থাকে না। নতুন এই আবিষ্কার প্লুটোর বর্তমান মর্যাদা পরিবর্তন না করলেও, এটি প্রমাণ করে সৌরজগতের বাইরের অঞ্চলে আরও অনেক বস্তু রয়েছে যা পৃথিবী থেকে শনাক্ত করা কঠিন।
২০১৫ সালে নাসার নিউ হরাইজনস মহাকাশযান প্লুটোর যে ছবি পাঠিয়েছিল, তাতে পাহাড়, সমভূমি ও হিমবাহ দেখা যায়। এতে প্রমাণ হয় যে, গ্রহের মর্যাদা হারালেও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্লুটো মোটেও গুরুত্বহীন নয়।
