দীর্ঘদিনের টিনের চালাঘর পেরিয়ে কুড়িগ্রামে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক ভাওয়াইয়া পরিষদ ভবন

​খন্দকার একরামুল হক সম্রাট, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

৩০ অক্টোবর ২০২৬:
ভাওয়াইয়া গানের দীর্ঘ ইতিহাস ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদ এক নতুন মাইলফলকের দিকে পা বাড়াল।
১৯৯৩ সালে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের পাঁচপীর এলাকায় প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে একটি সাধারণ টিনের চালাঘরেই ভাওয়াইয়া গানের চর্চা ও সাধনা চালিয়ে আসছে। এই সাদামাটা কুঁড়েঘর থেকেই তৈরি হয়েছে দেশ-বিদেশের খ্যাতিসম্পন্ন প্রায় ৩ হাজার ভাওয়াইয়া শিল্পী।

​নানামুখী প্রতিকূলতা ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এতদিন টিনের চালা ঘরেই কার্যক্রম চললেও, অবশেষে প্রতিষ্ঠানটির জন্য স্থায়ী ও আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ভবন নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, দেশের বরেণ্য শিল্পগোষ্ঠী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মধ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ এই উদ্যোগে একটি বড় অংকের অনুদান প্রদান করে। অনুদান ও স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় আজ শুক্রবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বহুতল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

​উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের পাঁচপীর এলাকায় কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের পাশে এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সমাজসেবী গেলাপ হোসেনের দান করা ৫ শতক জমির ওপর এই ভবনটি নির্মিত হচ্ছে।

​ভাওয়াইয়া পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ভাওয়াইয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ভাওয়াইয়া একাডেমির পরিচালক ভুপতি ভূষণ বর্মা। বশীর আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত আলী, ভাওয়াইয়া পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাজেন্দ্রনাথ রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক হারুন অর রশিদ লাল, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও গীতিকার তৌহিদুর রহমান, কসিম উদ্দিন পরিষদের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মমিন এবং ভূমিদাতা গেলাপ উদ্দিনের পুত্র এনামুর রহমান প্রমুখ। এই অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
খন্দকার একরামুল হক সম্রাট এবং নিউজ ২৪ এর কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি হুমায়ুন কবীর সূর্য।
​বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই আধুনিক বহুতল ভবনটি নির্মিত হলে কুড়িগ্রামের ভাওয়াইয়া চর্চা আরও বেগবান হবে এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা আরও উন্নত পরিবেশে গান চর্চার সুযোগ পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights