আজ বিশ্ব মান দিবস, গুরুত্ব পাচ্ছে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি

আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) ৫৭তম বিশ্ব মান দিবস। পণ্য ও সেবার গুণগত মান সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘অভিন্ন লক্ষ্য উন্নত বিশ্ব—সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি’। বিশ্বের প্রধান তিনটি মান সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন (আইএসও), ইন্টারন্যাশনাল ইলেকট্রোটেকনিক্যাল কমিশন (আইইসি) এবং ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) যৌথভাবে দিবসটি পালন করছে।

এবারের প্রতিপাদ্যে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ৭ নম্বর লক্ষ্য অর্থাৎ সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে জ্বালানি উৎপাদনের পাশাপাশি এর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি। সবার জন্য সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, টেকসই ও আধুনিক জ্বালানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় মান সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, চার্জ কন্ট্রোলার ও ব্যাটারির ৭৯টি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড বা মান প্রণয়ন করেছে। আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব মান নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত বিএসটিআই মোট ৪ হাজার ৬৩১টি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড প্রণয়ন করেছে।

পণ্যের গুণগত মান যাচাইয়ে বিএসটিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে একটি সোলার প্যানেল পরীক্ষাগার রয়েছে। সেখানে জার্মান প্রযুক্তির অত্যাধুনিক সান সিমুলেটরের মাধ্যমে সর্বোচ্চ এক হাজার ওয়াট ক্ষমতার সোলার প্যানেল পরীক্ষা করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক নির্দেশনা অনুসরণ এবং উন্নত আলোক উৎস ও নির্ভুলভাবে সমন্বিত যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে পরীক্ষাগারটিতে সোলার প্যানেলের কার্যক্ষমতা ও গুণগত মান যাচাই করা হচ্ছে।

বিশ্ব মান দিবস উপলক্ষে বিএসটিআই বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়সহ বিভাগীয় ও আঞ্চলিক কার্যালয়ে আলোচনা সভা এবং প্রচারমূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে বিশেষ সাক্ষাৎকারভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) মাধ্যমে মোবাইল ফোনে সচেতনতামূলক খুদে বার্তা পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড লাগানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights