ইউরোপকে রিজার্ভ থেকে ডিজেল বের করতে বলল যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ডিজেলের রেকর্ড দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের জরুরি ডিজেল মজুদ উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানানো হতে পারে। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইউরোপীয় দেশগুলোকে অনতিবিলম্বে তাদের মজুদ ব্যবহার করার তাগিদ দেন।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টে বেসেন্ট উল্লেখ করেন, বিদ্যমান সরবরাহ ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে আমাদের ইউরোপীয় সহযোগীদের উচিত তাদের পূর্ব প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা এবং অতিরিক্ত সরবরাহ অবিলম্বে বাজারে উন্মুক্ত করা।

এর আগে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রিয়ার আশা প্রকাশ করে বলেন, বাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়াতে জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি সহযোগিতামূলক কৌশল তৈরি করবে। একই সুরে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট আত্মবিশ্বাসের সাথে মন্তব্য করেন, ইউরোপ যদি তাদের জরুরি ডিজেল রিজার্ভ ছেড়ে দেয়, তবে বিশ্ববাজারে সৃষ্ট আকাশচুম্বী দাম অনেকটাই সহনীয় হয়ে আসবে।

ইতোমধ্যেই গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ে প্রতি গ্যালন ৬.৫৩ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইতালি, বেলজিয়াম, রোমানিয়া ও পোল্যান্ডসহ ইইউ-এর ১২টি সদস্য দেশে ডিজেলের দাম ইতিহাস ছুঁয়েছে। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের এমন নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধি ট্রাম্প প্রশাসন ও রিপাবলিকান আইন প্রণেতাদের ডিজেল রপ্তানি সীমিত করার ভাবনায় ফেলেছে।

রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের জরুরি ডিজেল মজুদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি রয়েছে ফ্রান্স ও জার্মানির হাতে। মার্কিন বাণিজ্য নীতি ও সম্ভাব্য রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইইউ বাণিজ্য প্রধান মারোস সেফকোভিচ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হলে তা ইউরোপের অর্থনীতির ওপর চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সূত্র: আল জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights