কক্সবাজারে পুকুরে আর্টিমিয়া চাষবিষয়ক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন
কক্সবাজার প্রতিনিধি
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ওয়ার্ল্ডফিশ পরিচালিত আর্টিমিয়া ফর বাংলাদেশ প্রকল্পের উদ্যোগে কক্সবাজারের এক অভিজাত হোটেলে দুই দিনব্যাপী পুকুরে আর্টিমিয়া চাষবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল প্রকল্পের অর্জিত জ্ঞানকে ছড়িয়ে দেওয়া, বেশি সংখ্যক মানুষকে প্রশিক্ষিত করানো এবং মৎস্য অধিদপ্তর, বিএফআরআই, বিসিক, শ্রিম্প হ্যাচারি এসোসিয়েশন সহ সংশ্লিষ্ট স্টকহোল্ডারদের উদ্ভাবনী প্রযুক্তিটি অবহিত করার মাধ্যমে টেকসই ব্যবস্থাপনা ও গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশ ২০২০ সাল থেকে বাংলাদেশে সফলভাবে লবণের পুকুরে আর্টিমিয়া চাষের শুরু করে যা কক্সবাজার জেলায় আর্টিমিয়া সম্পর্কিত উদ্ভাবনী উদ্যোগের সাথে যুক্ত লবণ উৎপাদনকারী এবং মাছ চাষিদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করায় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে লবণের পুকুরে সমন্বিতভাবে আর্টিমিয়া, চিংড়ি ও মাছ চাষের ফলে কক্সবাজার জেলায় কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থা উন্নত করা সহ দেশের সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতিতে সুদুর প্রসারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি পরিচালনা করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অ্যাকুয়াকালচার ও আর্টিমিয়া বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. প্যাট্রিক সরগিলুস এবং প্রকল্পের টেকনিকাল লিড ড. মুহাম্মদ মীজানুর রহমান। কর্মশালাটিতে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের ইনল্যান্ড ফিশারিজের পরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরী, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুর রহমান এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প কর্পোরেশনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. জাফর ইকবাল ভুঁইয়া।
প্রশিক্ষণে আরো উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, কক্সবাজার স্টেশনের গবেষকবৃন্দ, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প কর্পোরেশন এর কর্মকর্তা, শ্রিম্প হ্যাচারি এসোসিয়েশন এর সদস্য ও কক্সবাজারে অবস্থিত বিভিন্ন শ্রিম্প হ্যাচারির ব্যবস্থাপকবৃন্দ।
দুই দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা হ্যাচারি ও মাঠ পরিদর্শনের মাধ্যমে হ্যাচারিতে আর্টিমিয়া সিস্ট ফুটানো থেকে শুরু করে পুকুরে কিভাবে আর্টিমিয়া চাষ করা হয় তা সম্পকের্ক জ্ঞান লাভ করেন। এছাড়া কীভাবে আর্টিমিয়া বায়োমাস ও সিস্ট উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি সম্পর্কেও অংশগ্রহণকারীর ধারণা লাভ করেন।
পাশাপাশি তারা আর্টিমিয়া পুকুর পাড়ে জিও ব্যাগ পদ্ধতিতে সবজি চাষ, নার্সারীতে চিংড়ির পোস্ট-লার্ভা প্রতিপালন, তেলাপিয়া ও চিংড়ির একক চাষ, বানা-নার্সারী পদ্ধতিতে উন্নত ব্যাবস্থায় মাছ চাষ, বসতবাড়ীর পুকুরে মাছ ও পুকুর পাড় এবং বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষ, কাঁকড়া চাষ এবং চাষে আর্টিমিয়া বায়োমাস ব্যবহার ও পারিবারিক পুষ্টি উন্নয়নে আর্টিমিয়া বায়োমাসের ব্যবহার সম্পর্কে অবহিত হন।
উপস্থিত অংশগ্রহণকারী এবং স্টেকহোল্ডারগণ তারা প্রকল্প সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করে তার আলোকে টেকসহ উন্নয়নের নিরিখে প্রকল্প পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ এবং কী করে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারগণ বাংলাদেশে আর্টিমিয়ার মতো ক্লাইমেট স্মার্ট প্রযুক্তিকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে পারেন তা নিয়ে সুচিন্তিত মতামত প্রদান করেন।
