‘কয়েকদিন আগেও ৪ বিঘা জমি ও ২২০ পিলি পানবরজ ছিল, এখন পথের ফকির’
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে দ্বিতীয় দফায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর পানি কমে যাওয়ার পর গত দুই মাস আগে শুরু হওয়া ভাঙন নতুন করে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে গত দুই মাসে প্রায় ৫০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এ ভাঙন চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতি।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর, লিসেনদিয়া, রায়টা ও আরকান্দি এলাকায় পদ্মার তীরে তীব্র ভাঙন চলছে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে বাহাদুরপুর ও জুনিয়াদহ ইউনিয়নের আরকান্দি, মাধবপুর, রায়টা, লিসেনদিয়া ও জুনিয়াদহ এলাকায় প্রায় দুই হাজার বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এসব জমির অধিকাংশে পান চাষ হতো, যা এলাকার প্রধান অর্থকরী ফসল। পান চাষের ওপর নির্ভর করেই গড়ে উঠেছে দেশের পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী কুচিয়ামোড়া পানবাজার।
কুচিয়ামোড়া এলাকার পানচাষি ও ব্যবসায়ী নেতা আসলাম হোসেন বলেন, প্রতিদিন ৯ থেকে ১০ বিঘা করে জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। পাউবো একেবারেই নির্বিকার। আমরা গণহারে আবেদন জানিয়েছিলাম, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসন কয়েক দিন আগে ক্ষতিগ্রস্ত ৩২০ জন পানচাষির তালিকা নিয়ে গেছে। গত এক বছরে তাঁরা প্রায় ৩০ হাজার পিলি পানবরজ হারিয়েছেন। এই ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
রায়টা এলাকার পানচাষি নাসিম হোসেন বলেন, কয়েক দিন আগে আমাদের চার বিঘা জমি ও ২২০ পিলি পানবরজ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আমরা এখন পথের ফকির। ছোট ভাই দুঃখে কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে চলে গেছে।
মাধবপুরের পানচাষি আব্দুল জলিল বলেন, পদ্মার পাড়ে আমাদের সাত বিঘা জমি ছিল। এখন মাত্র চার কাঠা আছে। এই দুঃখ কাকে বলব?
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা সুলতানা জানান, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত দুই ইউনিয়নের প্রায় ৩২০ জন কৃষকের তালিকা তৈরি করে জেলায় পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা বলেন, ভেড়ামারার ওই অঞ্চলে প্রায় পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে ভাঙন হচ্ছে। এর মধ্যে তিন কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন অত্যন্ত গুরুতর। জরুরি সহায়তার মাধ্যমে এই ভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়। আমরা প্রকল্পের প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিরুল আরাফাত বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কৃষি অফিসের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পানচাষি ও কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া হবে।
