কৃষকদের বিশ্রামের জন্য ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, মাঠেই ঘর নির্মাণ
পাবনা প্রতিনিধি
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় মাঠের মধ্যে কৃষকদের খাওয়া-দাওয়া ও বিশ্রামের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করেছে মানবতার বন্ধন
নামের স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। কৃষকদের কষ্টের কথা চিন্তা করে এমন উদ্যোগ নিয়েছেন এলাকার যুবকরা।
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ধোপাদহ ইউনিয়নের ভাটো খানমামুদপুর ও পোরাট গ্রামের মাঝের বিস্তৃত কৃষি মাঠে এ ঘরটি নির্মাণ করা হয়। চারপাশের অন্তত ৩ থেকে ৪ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বসতবাড়ি না থাকায় মাঠে কাজ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তেন কৃষকরা। তাদের সেই দুর্ভোগ লাঘবেই এই ব্যতিক্রমী প্রয়াস।
জানা গেছে, এলাকাভিত্তিক যুবকদের নিয়ে ২০২৫ সালের শেষের দিকে গঠিত হয় মানবতার বন্ধন সংগঠনটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনের সদস্যরা নিজ অর্থায়নে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ সেবামূলক কাজ করে আসছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবার কৃষি মাঠে কৃষকদের কল্যাণে এ ঘর নির্মাণ করা হলো।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. তানজিল হোসেন ও সদস্যরা জানান, তাদের এলাকাটি সম্পূর্ণ কৃষিভিত্তিক হওয়ায়
প্রতিটি সদস্যই কোনো না কোনো কৃষকের সন্তান। ছোটবেলা থেকেই মাঠে বাবা-চাচাদের সঙ্গে কৃষিকাজে সহযোগিতা করার সুবাদে কৃষকদের সুখ-দুঃখের বিষয়টি তাদের খুব কাছ থেকেই দেখা। অতিমাত্রায় খরা, বন্যা বা অতিবৃষ্টির মতো প্রতিকূল পরিবেশেও কৃষকদের মাঠে পরিশ্রম করতে হয়। কৃষকদের এই কষ্টের কথা চিন্তা করেই তাদের এই ভাবনা। পরবর্তীতে জেলার প্রতিটি মাঠেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
এ বিষয়ে খানমামুদপুর গ্রামের কৃষক মোবাশ্বের আলীসহ কয়েকজন কৃষকরা জানান, আমাদের এলাকার ছেলেরা অনেক ভালো
একটা কাজ করেছেন। আমরা যারা মাঠে রোদে পুড়ে বা বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করি, শুধু তারাই বুঝতে পারি, এ ঘর আমাদের কতটা
উপকারের। কেননা প্রচণ্ড রোদে অনেক সময় পানির জন্য বুকটা ফেটে গেলেও এক ফোটা পানি খাওয়ার উপায় ছিলনা। এখন আর
সেই কষ্ট করতে হবে না।
ওই গ্রামের হাইস্কুল শিক্ষক মনসুর আলম খোকন বলেন. এলাকাবাসীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত মানবতার বন্ধন নামের অরাজনৈকি সংগঠনটির কয়েকজন ছেলে শুরুর দিকে এসে টাকা দাবি করলে আমি বিরক্ত হতাম, চাঁদাবাজির নতুন কৌশল ভেবে। এখন দেখছি না তারা চাঁদাবজি করেন না, আমাদের মতো লোকজনের কাছ থেকে টাকা তুলে একটা মহৎ কাজ করেন। তারপর থেকে আমি আর তাদের ফেরত দেই না। সব সময় তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করি।
মানবতার বন্ধন-এর সভাপতি কাজী রিয়াদ বলেন, কৃষক পরিবার থেকে উঠে আসা যুবকদের সংগ্রামের কথা মাথায় রেখেই
আমাদের সংগঠনের যাত্রা। মাঠে কাজ করতে গিয়ে কৃষকদের যেন কোনো কষ্ট না হয়, সেজন্য এই ঘরে তারা নামাজ আদায়
করতে পারবেন, দুপুরের খাবার খেতে পারবেন এবং ক্লান্ত হলে একটু বিশ্রামও নিতে পারবেন।
এছাড়া হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে নিরাপদ আশ্রয়ের পাশাপাশি কৃষকদের সুপেয় পানি পান, ওজু ও হাত-মুখ ধৌত করার জন্য এর আগে একটি টিউবওয়েলও স্থাপন করা হয়েছে।
