গোবিপ্রবিতে ২ শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) জুনিয়র শিক্ষার্থীকে গালিগালাজ ও মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আইন ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পরে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা হস্তক্ষেপ করেন।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে আইন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে পরিসংখ্যান বিভাগের এক শিক্ষার্থী ও তাঁর ভাইয়ের বাগ্‌বিতণ্ডা থেকে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে বিষয়টি দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাত আড়াইটা পর্যন্ত শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের দফায় দফায় আলোচনা চলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জায়েদ জামান দাবি করেন, ঘটনার রাতে মুক্তমঞ্চে বসে ছিলেন তাঁর মেজো ভাই অয়েজ জামান। তিনি আইন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এ সময় আইন বিভাগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে তাঁর ভাইকে মা-বাবা তুলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, হয়রানি ও লাঞ্ছিত করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, দূর থেকে বিষয়টি দেখে ভাইয়ের কাছে এগিয়ে যান জায়েদ। পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁকেও গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁদের দুজনকে মারধর করেন। আইন বিভাগের ইমরান, জনি, সাইমুম, জয় শিকদার, মেহেদী, সাজিদ ও রাফি নামের শিক্ষার্থীরা মারধরে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তাঁর গলা চেপে ধরা হয় বলেও দাবি করেন জায়েদ।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে আইন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী তাঁদের দুজনকে আলাদা করে বাড়িতে চলে যেতে সহায়তা করেন। এরপর পরিসংখ্যান বিভাগের সহপাঠীরা তাঁদের একটি অটোরিকশায় তুলে দেন। তবে আইন বিভাগের মেহেদী এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বিপ্র অটোরিকশাচালকের কাছ থেকে চাবি নিয়ে তাঁদের নামিয়ে দেন এবং ঘিরে ধরেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে পরিসংখ্যান বিভাগের অন্য শিক্ষার্থীরা এসে তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে নেন।

জায়েদ জামান অভিযোগ করেন, পরিসংখ্যান বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা বিষয়টি মীমাংসা করতে এগিয়ে গেলে তাঁদের সঙ্গেও মারধরের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর উপস্থিত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

এদিকে অভিযোগের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আইন ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রশাসনিক ভবনে প্রক্টর দপ্তরে যান। এ সময় পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের ফটকের সামনে অবস্থান নেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, একপর্যায়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা হাতে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের দিকে এগিয়ে যান। প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের হস্তক্ষেপে তাঁরা পেছনে সরে যান। তবে কিছুক্ষণ পর আবারও আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরাও আত্মরক্ষার জন্য লাঠি হাতে প্রক্টর দপ্তরের সামনে অবস্থান নেন।

পরে আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রাজিউর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। দুই বিভাগের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের সমাধানে প্রক্টর দপ্তরে শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা দীর্ঘ সময় বৈঠক করেন।

বৈঠক শেষে শুক্রবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম আহসান বলেন, আইন বিভাগের অভ্যন্তরীণ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় তিনি থানায় ছিলেন। বিষয়টি জানার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে যান বলে জানান তিনি।

প্রক্টর বলেন, প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পরে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা সেখানে এলে তাঁদের হাদি চত্বরে এবং সেখান থেকে প্রক্টর দপ্তরে নিয়ে আসা হয়। এরপরও আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা হাদি চত্বরে অবস্থান করছিলেন। প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের সেখানে পাঠানোর পরও প্রক্টর দপ্তরের সামনে অবস্থানরত পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের দিকে লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া করা হয় বলে জানান তিনি।

ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে প্রক্টর বলেন, তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন। সোমবার বিকেল ৪টার মধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এ ঘটনায় কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করা হবে না জানিয়ে প্রক্টর বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights