ঘুণ্টিঘরে মাদকের বিরুদ্ধে ফের যৌথ অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘরে মাদকবিরোধী অভিযানেও থামেনি কারবারি ও সেবনকারীদের দৌরাত্ম্য। এক পাশে অভিযান চালিয়ে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও এসআরবি-৩। এ সময় পাশেই চলছিল মাদক সেবন। এমনকি ভ্রাম্যমাণ আদালতে গ্রেপ্তারদের সাজা দেওয়ার সময়ও পাশে উপস্থিত ছিল অর্ধশত সেবনকারী। ঘুণ্টিঘরের বাসিন্দারা এ সময় এ প্রতিবেদককে বলতে থাকেন, রেললাইনে বসে থাকা ওরাও মাদক সেবন ও বিক্রি করে। সাজাপ্রাপ্ত কেউ কেউ রেললাইনে বসে থাকাদের নাম ধরে ডেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

মাদকের অন্যতম স্পট হিসেবে আলোচনায় আসা ঘুণ্টিঘরে গতকাল সরেজমিন এমন চিত্র দেখা যায়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পুলিশ সাময়িক সময়ের জন্য মাঝেমধ্যে অভিযান চালালেও তারা চলে যাওয়ার পর আবার পুরোনো রূপে ফিরে আসে ঘুণ্টিঘর। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখার দাবি জানান তারা। সরেজমিন দেখা যায়, দয়াগঞ্জ মোড়ের কিছুটা পর থেকে রেললাইনের পাশ দিয়ে রেললাইনবস্তি ও ঘুণ্টিঘর এলাকা বিস্তৃত। রেললাইনের পাশের ফাঁকা জায়গার পাশে পুরোনো পরিত্যক্ত ভবনের ছোট ছোট রুম মাদক সেবনকারীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মাদক সেবন করতে আসে। এখানে মাদক বিক্রির পর সেবনের জন্যও টাকা নেওয়া হয়। গাঁজা, ইয়াবা ও হেরোইন সেবনের জন্য এ এলাকার কুখ্যাতি রয়েছে। সম্প্রতি সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের আনাগোনা বেড়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শত শত সেবনকারীর দখলে থাকে এলাকাটি। অভিযানের আগে গেন্ডারিয়া রেলগেট এলাকায় দেখা যায়, রেললাইন ধরে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবন চলছে। রেলগেট থেকে ঘুণ্টিঘর এলাকা পর্যন্ত মাদক কেনাবেচার চিত্র ছিল চোখে পড়ার মতো। পরে ছদ্মবেশে থাকা এসআরবি-৩ ও ডিএনসির সদস্যরা অভিযান শুরু করলে সেখানে থাকা লোকজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় অনেকে দেয়াল টপকে পালিয়ে যান। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন- জুয়েল, তৌহিদ সাগর, মো. সুমন, আনাল, মো. নাসির, হিরা, মোতালেব মিয়া, আবদুল লতিফ, মো. সোহেল, নবী হোসেন, রুবেলসহ আরও চারজন। যাদের মধ্যে দুজন নারীও রয়েছেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা মো. তাওসিফ শরীফ ¯িœগ্ধ বলেন, অপরাধ দমনের অংশ হিসেবে এই এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। উল্লেখ্য, এই ঘুণ্টিঘর এলাকাতেই অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। ওই ঘটনার পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights