চীনের চাপে পিছু হটবে না তাইওয়ান: আফ্রিকা থেকে ফিরে প্রেসিডেন্ট লাইয়ের ঘোষণা
অনলাইন ডেস্ক
চীনের কড়া আপত্তি উপেক্ষা করে গোপনে আফ্রিকা সফর করেছেন তাইওয়ান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। এসওয়াতিনি (সাবেক সোয়াজিল্যান্ড) সফর শেষে দেশে ফিরে তিনি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও তাইওয়ান কখনও পিছু হটবে না।
মঙ্গলবার তাওইউয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে এ কথা বলেন তিনি।
লাই বলেন, “বিশ্ব সবার। তাইওয়ানও বিশ্বের অংশ। তাইওয়ানের জনগণ বিশ্বনাগরিক- তাদের বিশ্বে অংশগ্রহণের অধিকার আছে। কোনও চাপের মুখেই আমরা পিছু হটব না।”
এই সফর ঘিরে শুরু থেকেই উত্তেজনা তৈরি হয়। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং দ্বিপাক্ষিক রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক গড়ে তোলার অধিকার নেই বলে মনে করে। তবে তাইওয়ান সরকার এই দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
লাই সরকারের দাবি, তার নির্ধারিত সফরের আগে চীনের প্রভাবেই ভারত মহাসাগরীয় তিন দেশ- সেশেলস, মরিশাস এবং মাদাগাস্কার-তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের বিমানকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে বিকল্প ও দীর্ঘ পথ ব্যবহার করে তাকে যাতায়াত করতে হয়।
গত শনিবার লাই পৌঁছান এসওয়াতিনি, যা তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা মাত্র ১২টি দেশের একটি। দেশটির রাজা তৃতীয় মসোয়াতির সিংহাসনে আরোহণের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। সফরটি পূর্বঘোষণা ছাড়াই সম্পন্ন হয়।
লাই বলেন, সফরটি শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাইওয়ানের উপস্থিতি ও অবস্থান তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা। “এই সফর প্রমাণ করেছে, বাধা আসলেও বিশ্বে সম্পৃক্ত হওয়ার ব্যাপারে তাইওয়ানের দৃঢ়তা অটুট,” যোগ করেন তিনি।
চীন এর আগে লাইকে ‘গোপনে চলাফেরা করা ইঁদুর’ বলে কটাক্ষ করে এবং তার সফরের তীব্র নিন্দা জানায়।
ফেরার পথে লাইয়ের বিমান ভারত মহাসাগরের দক্ষিণাংশ ঘুরে দীর্ঘ রুটে যাত্রা করে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্যমতে, বিমানটি ক্রিসমাস দ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই এবং ফিলিপাইন হয়ে তাইওয়ানে প্রবেশ করে। দেশটিতে পৌঁছানোর সময় তাইওয়ানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিমানটিকে এসকর্ট করে।
সফরে লাইয়ের সঙ্গে ছিলেন এসওয়াতিনির উপপ্রধানমন্ত্রী থুলিসিলে দ্লাদলা, যিনি সফরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সূত্র: রয়টার্স
