চ্যাটজিপিটির পরামর্শে ওষুধ সেবনে তরুণীর মৃত্যু, ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা
অনলাইন ডেস্ক
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই মৃগীরোগের ওষুধের মাত্রা কমানোর পরামর্শ দিয়েছিল চ্যাটজিপিটি। সেই পরামর্শ অনুসরণ করতে গিয়ে খিঁচুনিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩১ বছর বয়সি এক তরুণী। এ ঘটনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তার বাবা-মা। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে বসবাসকারী চীনা বংশোদ্ভূত সফটওয়্যার প্রকৌশলী বোয়েন ওয়ানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মামলাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরামর্শের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাকরি হারানোর পর নতুন কাজের সন্ধান করছিলেন বোয়েন। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেতে তার নতুন চাকরি প্রয়োজন ছিল। এদিকে মৃগীরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ল্যামোট্রিজিন ওষুধের কারণে ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছিলেন তিনি। চাকরির সাক্ষাৎকারে ভালো করার জন্য ওষুধের মাত্রা কমানোর বিষয়ে চ্যাটজিপিটির পরামর্শ চান বোয়েন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, চ্যাটজিপিটি তাকে প্রতিদিনের ৪০০ মিলিগ্রাম ওষুধের মাত্রা ধাপে ধাপে কমিয়ে শূন্যে নামানোর একটি পরিকল্পনা দেয়। অথচ কোনো চিকিৎসক তাকে এমন পরামর্শ দেননি। বরং ওষুধের মাত্রা কমালে ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলেও তাকে আশ্বস্ত করেছিল চ্যাটবটটি।
অভিযোগ অনুযায়ী, চিকিৎসকের পরামর্শ না নেওয়ার বিষয়েও তাকে উৎসাহিত করা হয়। ওষুধের মাত্রা কমানোর সময় বোয়েনের শরীরে খিঁচুনির লক্ষণ দেখা দিলেও চ্যাটজিপিটি তাঁকে আশ্বস্ত করে যে, এতে মস্তিষ্কের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। এমনকি তার অভিজ্ঞতাকে খিঁচুনি বলেও মনে করেনি চ্যাটবটটি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি খিঁচুনিতে বোয়েনের মৃত্যু হয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি চীনে থাকা তার বাবা-মা সিয়াটলে পৌঁছে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেন। তাদের অভিযোগ, চীনা ভাষায় কথোপকথনের সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকলে এ মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব হতো। ক্ষতিপূরণ দাবির পাশাপাশি লাইসেন্স ছাড়া চিকিৎসাসংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়া বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র ড্রু পুসাতেরি ঘটনাটিকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, বোয়েন চ্যাটজিপিটির এমন একটি পুরোনো সংস্করণ ব্যবহার করেছিলেন, যা বর্তমানে আর চালু নেই। নতুন সংস্করণগুলো জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা শনাক্ত করতে আরও সক্ষম বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরামর্শ চিকিৎসকের বিকল্প নয়। বিশেষ করে মৃগীরোগের মতো জটিল অসুস্থতায় চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া ওষুধের মাত্রা কমানো বা বন্ধ করা বিপজ্জনক হতে পারে।
