জাতিসংঘ পরিষদে বাংলাদেশের নেতৃত্বে এআই অধিকারবিষয়ক প্রস্তাব গৃহীত

বাসস

বাংলাদেশের নেতৃত্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মানবাধিকারবিষয়ক একটি প্রস্তাব জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন।

মানবাধিকার পরিষদে এ ধরনের এটিই প্রথম প্রস্তাব।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ‘মানবাধিকারের প্রসার ও সুরক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব’-শীর্ষক প্রস্তাবটি জেনেভায় গৃহীত হয়।

বুধবার মিশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, মিসর, গ্রিস, গায়ানা, কুয়েত ও নেপালকে নিয়ে গঠিত মূল দলের সদস্যদের সঙ্গে এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ।

প্রস্তাবটির লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, ভবিষ্যতমুখী ও মানবাধিকারকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির উন্নতি সাধন। এতে উন্নয়ন ও উদ্ভাবনে প্রযুক্তিটির সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি মানবাধিকারের ওপর এর প্রভাব মোকাবিলার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য উদীয়মান প্রযুক্তির সুফল পাওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, কারিগরি সহায়তা, জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ লক্ষ্য অর্জনের কথা বলা হয়েছে।

খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় বাংলাদেশ জোর দিয়ে বলেছে, এআই সমাজ ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিবর্তন আনছে। এর উন্নয়ন ও ব্যবহার অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে এবং মানবিক মর্যাদা ও মানুষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে কেন্দ্রে রাখতে হবে।

ডিজিটাল রূপান্তরের রূপ নির্ধারণে উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তি ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থবহ অংশগ্রহণের ওপর প্রস্তাবটিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন খসড়া প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেয়।

বাংলাদেশ ও এর অংশীদাররা ঐকমত্য গড়ে তুলতে উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরামর্শ এবং আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করেছে।

মিশন এই প্রস্তাব গ্রহণকে এআই ও মানবাধিকারের মধ্যকার পরিবর্তনশীল সম্পর্ক নিয়ে পরিষদের বিবেচনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে।

মিশন থেকে জানানো হয়েছে, এ ফলাফল উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা জোরদার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সৃষ্ট সুযোগগুলোতে সমতাভিত্তিক অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights