ডুবসাঁতারে পটু টিকিহাঁস

দীপংকর ভট্টাচার্য লিটন, শ্রীমঙ্গল

প্রকৃতিতে বইছে শীতের হাওয়া। এ সময় বিশ্বের শীতপ্রধান অঞ্চল থেকে পরিযায়ী পাখিরা এসেছে দেশে। নানান প্রজাতি পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে উঠেছে হাওড়াঞ্চল। তেমনই একটি শীতের পাখি টিকিহাঁস। দক্ষিণে যাওয়ার পথে তারা নিচে কোনো জলাভূমি দেখলেই নেমে পড়ে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা এবং ইউরোপ-আফ্রিকার উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত পরিযায়ী পাখি টিকিহাঁসের বিচরণ রয়েছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত। তবুও এরা ব্যাপক হারে শিকারির কবলে পড়ে। এ হাঁসের মাথার পেছনে একটি ঝুঁটি রয়েছে; তাই ঝুঁটিহাঁস নামেও পরিচিত এরা। তবে দেখতে হাঁসের মতো হলেও এরা পরিযায়ী পাখি। ১০-১২ ফুট পানির গভীরে ডুব দিয়ে সাঁতার কেটে খাবার সংগ্রহ করে, যা অন্য হাঁসেরা পারে না। এরা আমাদের দেশের সুলভ পরিযায়ী পাখি। টিকিহাঁস দৈর্ঘ্যে ৪৩ সেন্টিমিটার। প্রজনন মৌসুমে ছেলে হাঁসের পিঠ চকচকে কালো হয়। দেহতল সাদা দেখায়। মেয়ে হাঁসের পিঠ ঘন বাদামি। তাদের মাথার পেছনে বড় ঝুলন্ত ঝুঁটি থাকে। হাওড়, বিল, হ্রদ, নদীসহ মিঠাপানির জলাশয়ে বিচরণ করে। সচরাচর মাঝারি ও বড় দলে এদের দেখা যায়। কখনো অন্যান্য পরিযায়ী হাঁসের মিশ্র দলেও থাকে। এরা দিবাচর ও সান্ধ্যচারী। পানিতে ডুব দিয়ে জলজ উদ্ভিদের কচি অংশ, শস্যবীজ, কীটপতঙ্গ ও শূককীট, চিংড়ি ও কাঁকড়াজাতীয় প্রাণী, ব্যাঙ, ছোট মাছ ইত্যাদি খেয়ে জীবনধারণ করে তারা। এপ্রিল থেকে আগস্ট এদের প্রজননকাল। এ সময় মূল আবাস এলাকায় কোনো নির্জন দ্বীপে বা নদী তীরে বেশ গোপনে লতাপাতার বাসা বাঁধে তারা। ডিম পাড়ে ৮ থেকে ১১টি। ডিমের রং জলপাই-বাদামি বা জলপাই-ধূসর। ২৩ থেকে ২৮ দিনে ডিম ফোটে ছানা বের হয়। ৪৫ থেকে ৫০ দিনে ছানাদের দেহে পালক গজায়।

শৌখিন ফটোগ্রাফার কাজল হাজরা বলেন, ‘টিকি হাঁস পানিতে অক্সিজেন সরবরাহ করার ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা রাখে। এরা যখন বারবার ডুব দিয়ে সাঁতার কেটে পানির গভীরে যায় তখন পানিতে প্রচুর বুদবুদ ওঠে। এসময় পানির ভিতরে প্রচুর অক্সিজেন প্রবেশ করে। পানিতে অক্সিজেন প্রবেশের ফলে জলাশয়ের উদ্ভিদ ও মাছেরা ভালো থাকে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights