নিরাপদ খাদ্য আইনে এক সপ্তাহে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা জরিমানা
অনলাইন ডেস্ক
নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ লঙ্ঘনের দায়ে গত এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১১টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) পরিচালিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১১ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় এসব অভিযান পরিচালিত হয়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ঢাকা মহানগর এলাকায় এক সপ্তাহে সাতটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি, বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, রেফ্রিজারেটরে লেবেলবিহীন মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ এবং ট্রেড লাইসেন্স, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ ও পেস্ট কন্ট্রোলের প্রমাণক প্রদর্শনে ব্যর্থতার মতো অপরাধ পাওয়া যায়।
এসব অপরাধে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঢাকার বাইরে ফেনী, পাবনা, বরিশাল, নরসিংদী, সুনামগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ জেলায় ছয়টি প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে লেবেলবিহীন পণ্য সংরক্ষণ, পণ্য কেনার চালান দেখাতে না পারা, অননুমোদিত রাসায়নিক রং ব্যবহার, উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা ও ছারপোকার উপস্থিতি এবং খাদ্যপণ্য খোলা অবস্থায় নন-ফুডগ্রেড পাত্রে সংরক্ষণের মতো অনিয়ম পাওয়া যায়।
এ ছাড়া নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের দায়েও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এসব অপরাধে মোট সাড়ে আট লাখ টাকা জরিমানা আদায় এবং ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে, গত ১৬ অক্টোবর নাটোরের ‘মৌচাক বেকারি’তে অভিযান চালিয়ে লেবেলবিহীন ও বাসি খাদ্যপণ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩২(ক) ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন নাটোর বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইব্রাহিম আলী।
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে গত এক সপ্তাহে সারাদেশে ২১৪টি খাদ্যস্থাপনায় মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বিএফএসএ। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান।
মনিটরিংয়ের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করা হয়। অনিয়মের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। খাদ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তদারকি, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও গতিশীল ও বিস্তৃত করা হবে।
