পৌরসভা আছে নেই উন্নয়নের ছোঁয়া

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি

পৌর উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি রাঙামাটিতে। অনেক বছর ধরে নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত এ জেলার মানুষ। রাঙামাটির ১০টি উপজেলা মিলে দুটি মাত্র পৌরসভা। একটি রাঙামাটি সদর, অন্যটি দুর্গম উপজেলা বাঘাইছড়িতে। নামমাত্র পৌরসভা থাকলেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি এ দুটি পৌরসভা। নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, দলীয়করণসহ রয়েছে নানা অভিযোগ। তাই স্থবির পৌর ওয়ার্ডের উন্নয়ন। শুধু তাই নয়, সড়ক, সড়কবাতি, ফুটপাত ও কালভার্ট রয়েছে অস্তিত্বহীনতায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় প্রথম পৌরসভা গঠন করা হয়। এরপর ২০১২ সালে এ পৌরসভায় প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরে ২০১৭ সালে দ্বিতীয় দফা নির্বাচন হয় এ পৌরসভায়। অর্থাৎ সাধারণ জনগণের ভোটে টানা ১০ বছর নির্বাচিত পৌর মেয়র ও জনপ্রতিনিধিরা ক্ষমতা থাকলেও পৌরবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোনো ভূমিকাই রাখেনি। বদলায়নি পৌর এলাকার চিত্র। এখনো রয়েছে কাদামাটির সড়ক, ফুটপাত তো দূরের কথা, নেই কোনো সড়কবাতি। কালভার্টগুলোর অবস্থা এখন মরণদশা। নামমাত্র সড়ক থাকলেও সেগুলো এখন নাজেহাল অবস্থা। একটু বৃষ্টিতে জমে পানি। তৈরি হয় বড় বড় গর্ত। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমল থেকে এখন পর্যন্ত এ এলাকায় কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নামমাত্র পৌরসভা বাঘাইছড়ি। কিন্তু উন্নয়নের লেশমাত্র নেই। ভাঙা সড়কের ভোগান্তি তো আছেই। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি রাতের বেলা। কোনো সড়কবাতি নেই। তাই সন্ধ্যা নামলে অন্ধকারে ডুবে যায় পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ড। অন্যদিকে তার চেয়ে ভয়াবহ অবস্থা রাঙামাটি সদরের পৌরসভার। নামে পর্যটন শহর। কিন্তু তার লেশমাত্র নেই। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতে আর অবহেলায় ডুবে আছে এ পৌরসভাটি। শহরজুড়ে রয়েছে ফুটপাতের সংকট। যা আছে তাতেও রাতদিন চলছে অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য। সন্ধ্যা নামলে অন্ধকারে ডুবে যায় পৌর শহর। সড়কবাতি নেই প্রধান ও অভ্যন্তরীণ সড়কসহ পৌর ওয়ার্ডগুলোতে। আর সড়কগুলোর অবস্থা এখন মরণদশা। কভিড-১৯ এ সড়ক উন্নয়নের প্রকল্পও এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি। রাঙামাটির ৯টি ওয়ার্ডের সড়কগুলো এখন অস্তিত্ব সংকটে। সড়ক ভেঙে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। আর ফুটপাত না থাকয় সাধারণ মানুষ আর কমলমতি শিক্ষার্থীদের হাঁটতে হয় গাড়ির সড়কে। শুধু তাই নয়, রাতদিন সড়কে থাকে গরু-ছাগল। একই সঙ্গে নর্দমায় ভরপুর থাকে ডাস্টবিনগুলো।

রাঙামাটি পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী পুলক জীবন চাকমা বলেন, বৃষ্টির কারণে পৌর এলাকার সড়কবাতি মেরামতের কাজ করা যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights