ফ্রান্সে শিক্ষার্থী বিক্ষোভ: পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে উড়ে গেল কিশোরের হাত

অনলাইন ডেস্ক

ফ্রান্সে স্কুল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত উড়ে গেছে।সোমবার দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর লঁসের একটি স্কুলের কাছে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ওই কিশোরের জীবন শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

পা-দ্য-কালে অঞ্চলের প্রিফেক্ট ফ্রাঁসোয়া-জাভিয়ে লশ ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, আহত কিশোরকে দ্রুত নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে কীভাবে তার হাত উড়ে গেছে, সে বিষয়ে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সরকারি পর্যায় থেকে বিস্তারিত কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ
ঘটনাটি ঘটে লঁসের অগুস্ত বেহাল উচ্চবিদ্যালয়ের কাছে। স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে আগের কয়েক দিনের তুলনায় সেখানে শিক্ষার্থীদের বড় একটি সমাবেশ হয়।

প্রিফেক্ট লশ বলেন, সকালে একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয় পুলিশের সদস্যদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন ধরনের বস্তু ছুড়তে শুরু করে। এসবের মধ্যে পাথর, আতশবাজি ও ‘মর্টার’ ধরনের বিস্ফোরক সামগ্রীও ছিল বলে জানান তিনি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দাঙ্গা মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত পুলিশের বিশেষ ইউনিট ‘সিআরএস’-এর একটি দল মোতায়েন করা হয়।

লশ জানান, জাতীয় পুলিশের আন্তঃবিভাগীয় পরিচালক তার অনুমোদন নিয়ে ওই ইউনিট মোতায়েনের নির্দেশ দেন। আর পুলিশের এই মোতায়েনের সময়ই গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনাটি ঘটে।

কিশোরের হাত কীভাবে উড়ে গেল?
আহত কিশোরের হাতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যমগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

আঞ্চলিক সংবাদপত্র লা ভোয়া দ্যু নর জানিয়েছে, কিশোরটি পুলিশের ব্যবহৃত একটি স্টান গ্রেনেড তুলে নেওয়ার পর সেটি বিস্ফোরিত হয়ে তার হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। তবে এ তথ্য এখনও সরকারি তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।

কর্তৃপক্ষও কিশোরটি কী ধরনের বিস্ফোরক বা বস্তু হাতে নিয়েছিল, সে বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে ঘটনাটি ঠিক কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্ত
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক প্রসিকিউটর। পুলিশের কর্মকাণ্ডও তদন্তের আওতায় আসবে।

এ জন্য ফরাসি পুলিশের তদারকি সংস্থা জেনারেল ইন্সপেকশন অব দ্য ন্যাশনাল পুলিশ (আইজিপিএন)-কে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, কী ঘটেছিল এবং কিশোরটি কীভাবে এত গুরুতর আহত হলো- তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র বের করাই তদন্তের লক্ষ্য।

প্রসিকিউটর বলেছেন, ঘটনার ‘সব দিক স্পষ্ট করার’ জন্য তদন্ত করা হবে।

দেশজুড়ে বিক্ষোভ, বন্ধ প্রায় ৫০০ স্কুল
স্কুল ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা, শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মীর ঘাটতি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কয়েক দিন ধরে ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছে। এসব বিক্ষোভের কয়েকটিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষও হয়েছে।

সোমবার দেশটির প্রায় ৫০০ স্কুল আংশিক অথবা পুরোপুরি বন্ধ ছিল। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ক্রমেই বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

লঁসের অগুস্ত বেহাল উচ্চবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সোমবার সকালে এক বিবৃতিতে জানায়, সকালের ঘটনার পর পুরো স্কুল সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালনা করা হবে।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের মানসিক সহায়তার জন্য স্কুলে একটি ‘শ্রবণ ও সহায়তা ইউনিট’ চালু করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

আন্দোলন ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
স্কুলের অবকাঠামো ও জনবলসংকট নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে একের পর এক সংঘর্ষ আন্দোলনকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। লঁসের ঘটনাটি সেই উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

তবে ১৫ বছর বয়সী কিশোরের হাত উড়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা কী ছিল এবং বিস্ফোরণের জন্য দায়ী বস্তুটি আসলে কী- এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট হবে না। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার সব পক্ষ ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights