যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সিদ্ধান্ত, বড় ধাক্কা খেল ভারতের ৮ আইটি কোম্পানি

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড আবেদন প্রক্রিয়ায় বড় ধাক্কা খেয়েছে ভারতীয় প্রযুক্তি খাত। মার্কিন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন হঠাৎ করেই টাটা, ইনফোসিস ও উইপ্রোর মতো ৮টি শীর্ষস্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠানের জন্য পারমানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম স্থগিত ঘোষণা করেছে। এই তালিকায় কগনিজেন্ট, এইচসিএল, অ্যাডোবি এবং ক্যাপজেমিনির মতো আন্তর্জাতিক জায়ান্ট কোম্পানিগুলোর নামও রয়েছে। মার্কিন শ্রমবাজার থেকে স্থানীয় নাগরিকদের সুরক্ষার দোহাই দিয়ে এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে এইচ-ওয়ানবি ভ্যালিডেশন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত হাজার হাজার ভারতীয় পেশাজীবীর ওপর।

মার্কিন সরকারের এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট আটটি প্রতিষ্ঠান এখন থেকে নতুন কোনো ‘পার্ম’ আবেদন জমা দিতে পারবে না এবং তাদের পূর্বে জমা থাকা পেন্ডিং আবেদনগুলোর প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। উল্লেখ্য, পারমানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন হলো নিয়োগকর্তা কর্তৃক পরিচালিত একটি বিশেষ ব্যবস্থা, যা দেশটিতে সাময়িকভাবে কাজ করতে যাওয়া বিদেশি দক্ষ কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের সনদ বা গ্রিন কার্ড অর্জনের প্রাথমিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। মার্কিন শ্রম বিভাগ সাধারণতঃ এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই করে দেখে যে নির্দিষ্ট কোনো পদের জন্য পর্যাপ্ত যোগ্য মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে স্থানীয়দের মজুরি বা চাকরির সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না।

যদিও পার্ম প্রোগ্রাম স্থগিত করার মানে এই নয় যে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের বিদ্যমান এইচ-ওয়ানবি ভিসার মেয়াদ বাতিল হয়ে যাবে, তবে এটি তাদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার স্বপ্নকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিল। এর ফলে হাজার হাজার কর্মীকে এখন স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা না পাওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য সাময়িক ভিসার ওপর নির্ভর করে যুক্তরাষ্ট্রে দিন কাটাতে হবে। পরিবারের পাশাপাশি পেশাগত জীবনের দিক থেকেও তাঁদের বড় ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে।

হঠাৎ কেন এমন কঠোর পদক্ষেপে গেল ট্রাম্প প্রশাসন? তার ব্যাখ্যায় জানানো হয়েছে, মার্কিন অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থান রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অভিযোগ করেছেন, বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো পার্ম প্রোগ্রামের সুযোগ নিয়ে কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করছে এবং স্থানীয় মার্কিন নাগরিকদের চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে। মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, মার্কিন কোম্পানিগুলোকে অবশ্যই মার্কিন নাগরিকদেরই অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়োগ দিতে হবে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে শুধু যে কর্মীরাই বিপাকে পড়বেন তা নয়, বরং সংশ্লিষ্ট আইটি কোম্পানিগুলোও ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ প্রযুক্তিবিদদের আকৃষ্ট করতে চরম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে। কারণ, বিদেশি প্রযুক্তিবিদদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ থাকে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ। সাধারণ নিয়োগকর্তা-স্পন্সরড পার্ম ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় বিদেশি কর্মীরা এখন ইবি-ওয়ান এ কিংবা ইবি-টু ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েভারের মতো বিকল্প ও ব্যক্তিগত আবেদন ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হতে পারেন, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং বহু বছরের ব্যাকলগের কারণে অত্যন্ত জটিল। ইতিপূর্বে নতুন এইচ-ওয়ানবি ভিসার ওপর এককালীন ১ লাখ ডলারের ফি আরোপের মার্কিন প্রচেষ্টাকে আদালত সাময়িকভাবে আটকে দিলেও পার্ম প্রোগ্রামের ওপর এই সর্বশেষ আঘাত মার্কিন আইটি খাত ও ভারতীয় প্রবাসীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অস্থিরতা তৈরি করেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights