‘রাজধানীতে ৮ জোনে অটোরিকশা ও ই-বাইকের জন্য আলাদা রং নির্ধারণ করা হবে’

অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীতে অটোরিকশা ও ই-বাইক চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে আটটি জোনে ভাগ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, দুই সিটি কর্পোরেশনের চারটি করে মোট আটটি জোনে অটোরিকশা ও ই-বাইকের জন্য আলাদা রং নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি জোনে এসব যানবাহনের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। নির্ধারিত সংখ্যার বাইরে নতুন করে কোনো রিকশা নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে না।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বরে সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসি প্রশাসক এসব কথা বলেন।

সরকার ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকাকে আটটি জোনে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, এর মধ্যে উত্তরে চারটি এবং দক্ষিণে চারটি জোন থাকবে। চারটি জোনে অটোরিকশা ও ই-বাইক পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একটি বিধি ও নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি জোনের অটোরিকশার জন্য আলাদা রং নির্ধারণ করা হবে। যেমন, একটি জোনে সবুজ রঙের রিকশা থাকবে, অন্য জোনে থাকবে কমলা রঙের। এভাবে চারটি জোনে ভিন্ন ভিন্ন রং ব্যবহার করা হবে। এতে এক জোনের রিকশা অন্য জোনে গিয়ে চলাচল করতে পারবে না।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমানে একটি অটোরিকশা নিয়ে রাজধানী থেকে কুমিল্লা, দিনাজপুর কিংবা জয়পুরহাট পর্যন্ত চলে যাওয়া সম্ভব। এ কারণেই অটোরিকশা চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, যারা বর্তমানে অটোরিকশা চালাচ্ছেন, তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তারা যাতে গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে রাজধানীতে যানজট সৃষ্টি করে মানুষের চলাচলে বাধা তৈরি করতে না পারেন, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অটোরিকশাচালকদের সাম্প্রতিক আন্দোলন প্রসঙ্গে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীও ছিলেন। ফলে এটি শুধু অটোরিকশাচালকদের আন্দোলন, নাকি সরকারকে চাপ দেওয়ার জন্য কোনো মহলের চেষ্টা, সেটিও বিবেচনার বিষয়।

অটোরিকশা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, জোনভিত্তিক চাহিদার তালিকা করা হবে। সেই চাহিদা অনুযায়ী অটোরিকশার সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি জোনের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যা থাকবে এবং সেই সংখ্যার বাইরে নতুন করে কেউ নিবন্ধনের সুযোগ পাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights