রেকর্ডগড়া মিশন শেষে ফিরলো ইউএসএস লিংকন, সান দিয়েগো উপকূলে আবেগঘন মুহূর্ত

অনলাইন ডেস্ক

দীর্ঘ ও রেকর্ড-গড়া মিশন শেষে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন অবশেষে ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর হোমপোর্টে ফিরে এসেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও এর মিত্রদের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান শেষে বৃহস্পতিবার রণতরীটি বন্দরে নোঙর করে।

ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর বন্দরে জাহাজটি এসে পৌঁছালে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রায় এক বছর পর প্রিয়জনদের কাছে পেয়ে খুশিতে কেঁদে ফেলেন পরিবারগুলোর হাজারো মানুষ।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, পারস্য উপসাগরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিরোধী যুদ্ধ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে জাহাজটির মিশন দীর্ঘায়িত হয়েছিল। একটানা দীর্ঘ এই মোতায়েনের কারণে নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সার্বিক সুরক্ষা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে সান দিয়েগো তীরে ভোর থেকেই জড়ো হতে থাকেন স্বজনেরা। জাহাজটি বন্দরে নোঙর করার পর সৃষ্টি হয় অভূতপূর্ব দৃশ্য। প্রায় ১০০ জনেরও বেশি তরুণ নাবিক প্রথমবারের মতো তাদের নবজাতক সন্তানদের কোলে নেওয়ার সুযোগ পান। দীর্ঘ বিরতির পর অনেক বাবা তাদের বেড়ে ওঠা সন্তানদের দেখে কান্না ধরে রাখতে পারেননি। কোলে তুলে নিয়ে আদর করতে দেখা যায় বহু নাবিককে।

মিশনে থাকা এক সেনাসদস্যের সঙ্গী আলবা সোলানো বার্তা সংস্থাকে জানান, ‘সাগরে থাকার সময় যোগাযোগ রাখা অত্যন্ত দুরূহ ছিল। শুধু ইমেইল আর মাঝে মাঝে মেসেজ আসত। ফোনের নেটওয়ার্ক এত বাজে ছিল যে তিনি আমাদের কথা শুনলেও আমরা কিছু শুনতে পেতাম না। সেপ্টেম্বরের শুরুতে থাইল্যান্ডে বিরতির পরই কেবল স্পষ্ট কথা বলতে পেরেছিলাম।’

পারমাণবিক শক্তিচালিত এই এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারটি ২০২৫ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ চীন সাগরের উদ্দেশে ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়েছিল। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল হামলা শুরুর ঠিক মুখে জাহাজটির গতিপথ বদলে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়। এরপর দীর্ঘ পথ পরিক্রমা শেষে সেপ্টেম্বরের শুরুতে থাইল্যান্ডে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি দেয় রণতরীটি।

দীর্ঘায়িত এই মিশন সাধারণ সেনা সদস্যদের ওপর চরম মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছিল বলে জানা গেছে। গত আগস্টে সেনা পরিবার ও আইনপ্রণেতারা জাহাজে আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি ও খাদ্যসংকটের মতো গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন এক চিঠিতে স্বীকার করেছে, এই স্ট্রাইক গ্রুপে দায়িত্বপালনকালে অন্তত আটজন সদস্য আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় কারো প্রাণহানি ঘটেনি।

ভারপ্রাপ্ত নৌসচিব হাং কাও জানান, আগস্টে এক নাবিক সাগরে লাফ দিলে তাঁকে উদ্ধার করা হয় এবং মার্চে অপর এক নাবিককে সাগরে লাফ দেওয়া থেকে বিরত রাখেন সহকর্মীরা।

খাদ্যসংকটের বিষয়ে প্রশাসন জানিয়েছে, রণতরীতে প্রয়োজনীয় খাদ্যমজুত থাকলেও যুদ্ধকালীন রসদ পৌঁছানোর জটিলতার কারণে কিছুদিনের জন্য মূল খাবারের পদ দু’টি থেকে কমিয়ে একটিতে নিয়ে আসা হয়েছিল।

সকল বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে অবশেষে সেনাসদস্যরা স্বজনদের মাঝে ফিরে আসায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে পরিবারগুলো।

সূত্র: ফার্স্টপোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights