রেলস্টেশন দখল করে মার্কেট

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা সদরের দৌলতগঞ্জ রেলস্টেশন। প্রথম দেখায় মনে হবে এটি হয়তো একটি কাঁচাবাজার। অথচ এটি দেশের একমাত্র রেলস্টেশন, যেখানে লুপ লাইনের ওপর গড়ে উঠেছে কথিত হকার্স মার্কেট, মাছের আড়ত, সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড, পিকাপ ভ্যান স্ট্যান্ড ও ভাঙারির দোকান। ৯ বছর বন্ধ থাকা স্টেশনের পাশে রেলওয়ের লুপ লাইনের মাঝে নির্মিত হয়েছে শতাধিক দোকানের একটি স্থায়ী মার্কেট। এদিকে দখল হওয়া সেই মার্কেট ইজারা দেওয়া শুরু করেন তৎকালীন পৌর মেয়র কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা আবুল খায়ের। এখন দোকানগুলোর ইজারা ও খাজনা আদায় করে পৌরসভা। স্থানীয়রা এই অনিয়মের প্রতিকারের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় ও পৌরসভার সূত্রমতে, চলতি বছর স্টেশনের রেললাইনের ওপর নিমির্তি পৌর হকার্স মার্কেট ৩০ লাখ, মাছের আড়ৎ ৩৩ লাখ ৫১ হাজার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও পিকআপ স্ট্যান্ড ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয়। রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রমতে, দৌলতগঞ্জ রেলস্টেশন দখলের নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক এলজিআরডিমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, তাঁর শ্যালক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহব্বত আলী, সাবেক মেয়র উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মো. আবুল খায়েরসহ তাঁদের সহযোগীরা। সরেজমিন দেখা যায়, লাকসাম সদরে অবস্থিত দৌলতগঞ্জ রেলস্টেশন। স্টেশন না বাজার দেখে বোঝার উপায় নেই। স্টেশনের উত্তরে রেললাইনটিও দখল হয়ে গেছে। লাইনের ওপরে বসেছে ফল ও সবজির দোকান। রেললাইনের পাশে বাজারের আবর্জনা ফেলে ভাগাড় বানানো হয়েছে। পাশ দিয়ে হাঁটতে নাকে হাতে দিতে হয়। গেটের ঘরটির সামনে বসানো হয়েছে একাধিক পানের দোকান। তারা গেটম্যানের ঘরটিতে মালামাল রাখে। স্টেশনে প্ল্যাটফর্মের কক্ষগুলো ছাড়া বাকি সবই দখল হয়ে গেছে। তবে প্ল্যাটফর্মে বসা হকাররা তাঁদের মালামাল রাখেন স্টেশনমাস্টারের কক্ষে। তাঁরা রেলওয়ের স্টাফদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে এখানে মালামাল রাখেন বলে জানা গেছে। হকার্স মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, দখলের স্থানে ৬ বর্গফুট জায়গা ৫০ হাজার টাকা করে অগ্রিম নেওয়ার নিয়ম করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারে সময় সাবেক এলজিআরডিমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে দখলের পর মার্কেটটি তিনি উদ্বোধন করেন। নিজেরা অগ্রিম বাবদ লুটের পর তা পৌরসভায় হস্তান্তর করা হয়। দখলের কারণে এই স্টেশনে ট্রেন ক্রসিংও হয় না। এ ছাড়া এটি দখলমুক্ত না হলে রেলওয়ের জমি দখলে অন্যরাও উৎসাহিত হবেন।

রেলওয়ের লাকসামের কানুনগো মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘স্টেশনের জায়গা এখন পৌরসভা দখল করে রেখেছে। এ নিয়ে কয়েকবার উচ্ছেদের জন্য আমাদের অফিসে রিপোর্ট জমা দিয়েছি। প্রশাসন যেকোনো সময় তা উচ্ছেদ করতে পারে।’ লাকসাম পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, ‘আমরা ইজারা দিচ্ছি তা সঠিক। তবে এটা আগে থেকে হয়ে আসছে। এটা আমাদের প্রশাসনে যাঁরা আছেন, তাঁরা ভালো বলতে পারবেন।’ এদিকে পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন সুলাতানাকে ফোনে কয়েকবার চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন মামলায় পালিয়ে থাকায় ও ফোন বন্ধ থাকায় সাবেক এলজিআরডিমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামসহ অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্যও নেওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights