শোলমারি নদী শুকিয়ে নালা
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা
উজানে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় শোলমারি নদীর উৎস মুখে পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে দখল-দূষণ ও অপরিকল্পিত স্লুইস গেট নির্মাণের কারণে খুলনার একসময়কার খরস্রোতা এ নদীটি এখন মৃত প্রায়। ১৫০ মিটার প্রশস্ত নদীটি শুকিয়ে কোথাও মাত্র ২-৩ মিটারের সরু নালায় পরিণত হয়েছে। ডুমুরিয়া উপজেলা রংপুর ইউনিয়নে বিলাঞ্চল থেকে শোলমারি নদী উৎপত্তি। পরবর্তীতে নদীটি বটিয়াঘাটা ও ডুমুরিয়া উপজেলার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বটিয়াঘাটা এলাকায় কাজীবাছা নদীতে গিয়ে পতিত হয়েছে। নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৯ কিলোমিটার। শোলমারি শুকিয়ে যাওয়ায় এখন কাজীবাছাও পড়েছে অস্তিত্ব সংকটে।
স্থানীয় স্কুল শিক্ষক শরিফুল ইসলাম জানান, নিয়মিত খনন কাজ না হওয়ায় ও উজানে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় নদীর উৎসমুখে পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। এতে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ বন্ধ হতে থাকে। বিভিন্ন স্থানে স্লুইস গেট, ইটভাটা, দখল-দূষণে একসময় নদী শুকিয়ে মরা খালে পরিণত হয়। এদিকে জলবায়ু পরিবর্তন ও উজানে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শোলমারি নদীর মতো পলি পড়ে আপার ভদ্রা, লোয়ার ভদ্রা, বুড়ি ভদ্রা, লোয়ার সালতা, আপার সালতা, হরি, হামকুড়া, গ্যাংরাইলসহ ১১টি নদনদী ভরাট হয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা ও ফুলতলায় অতিবৃষ্টিতে কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন, শাকসবজি, পেঁপে ও তরমুজ চাষ ব্যাহত হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নদীর দুই পার দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা ও ইটভাটা গড়ে উঠেছে, যা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে মারাত্মক বাধাগ্রস্ত করছে। নদীটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় ডুমুরিয়া বিল ডাকাতিয়া ও বটিয়াঘাটা বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ পানি কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ এ বি এম শফিকুল ইসলাম জানান, নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বিলের পানি নদীতে নামতে পারে না। ফলে মানুষের জীবনজীবিকা রক্ষায় দ্রুত নদী খনন করে জলাবদ্ধতা নিরসনে পদক্ষেপ নিতে হবে। স্থানীয়দের মতে, নদীটি খনন ও দখলমুক্ত করে জোয়ার-ভাটার প্রবাহ ফিরিয়ে না আনলে এ এলাকার কৃষি ও জনজীবন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, শোলমারি নদী নাব্য সংকট নিরসনে প্রায় ৫০ কোটি টাকার বৃহৎ প্রকল্প অনুমোদনে অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ড্রেজিং ও পলি অপসারণে কাজ চলমান রয়েছে। বিল ডাকাতিয়া জলাবদ্ধতা কমাতে শোলমারি স্লুইস গেট এলাকায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সেচ পাম্প ও এক্সকাভেটর দিয়ে পানি নিষ্কাশন কাজ চলমান রয়েছে।
পাউবো খুলনা (পওর-১) নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহমান তাযকিয়া জানান, বিলের পানি নিষ্কাশনে শোলমারি রেগুলেটরে পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। শোলমারি গেটের কাছে নদী খনন করায় পানি নিষ্কাশন হতে শুরু করেছে। পরবর্তীতে নদী খনন করে নাব্য ফিরিয়ে আনা হবে।
