সাগরে জেলিফিশ বৃদ্ধি পাওয়ায় কমে যাচ্ছে মাছ

মিজানুর রহমান, কুতুবদিয়া

সাগরে ক্ষতিকর সামুদ্রিক প্রজাতি হচ্ছে জেলিফিশ। এটি সাধারণত গ্রীষ্মকালে খরা নোনা পানি থেকে সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের ভাষায় এটিকে “প্যারকি” বলে। সাগরে এ জেলিফিশ বৃদ্ধি পেলে মাছের আনাগোনাও কমে যায়। শুধু তাই নয়, মানুষের গায়ের চামড়া এবং জেলেদের জালেরও ক্ষতি হয়। ফলে, সাগরে মাছ শিকারে যাচ্ছে না কুতুবদিয়ার বেশির ভাগ জেলেরা। তবে, বৃষ্টি হলে বা সাগরে মিষ্টি পানি বৃদ্ধি পেলে এটি দূর হতে পারে।

স্থানীয় জেলেরা জানান, তারা মাছ না পেয়ে সাগর থেকে খালি হাতে ফিরেছে। খরা নোনা পানি থেকে সৃষ্টি জেলিফিশ বা প্যারকির কারণে জেলেরা সাগরে মাছ পাচ্ছে না। প্রতি বছর এ সময়ে এ ক্ষতিকর সামুদ্রিক প্রজাতির উদ্ভব হয়। নিজেদের জাল নিরাপদে রাখতে সাগর থেকে জাল তুলে এনেছে। তবে, বৃষ্টি হলে বা সাগরে মিষ্টি পানি বৃদ্ধি পেলে এটি দূর হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তারা।

পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক জাতীয় সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কুতুবদিয়া উপজেলার আহ্বায়ক এম. শহীদুল ইসলাম বলেন, সাগরে জেলিফিশের আধিক্যের ব্যাপারটি সম্পূর্ণ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ার কারণে মিষ্টি পানির শূন্যতা থেকে জেলিফিশ দিন দিন বাড়ছে। এগুলো এক ধরনের বিষাক্ত হয়। তাই মানুষের সংস্পর্শে এলে স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করে তা বিকল করে দেয় এবং গায়ে লাগলে ফোস্কা পড়ে। তবে সব জেলিফিশ বিষাক্ত হয় না।
কুতুবদিয়া উপজেলার মেরিন ফিশারিজ কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব বলেন, সাগরে বিষাক্ত ধরনের জেলিফিশের পরিমাণ বেড়ে গেছে। যা মানুষের শরীরের সংস্পর্শে আসলে এমন অস্বস্তি হতে পারে। এ জেলিফিশের প্রধান খাদ্য মাছ ও মাছের ডিম। মাছ ও ডিম খেয়ে ফেলার কারণে সাগরের মাছ কমে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সামুদ্রিক প্রাণী কচ্ছপ কমে যাওয়া ও সামুদ্রিক দূষণের ফলে বিশ্বজুড়ে সাগরে জেলিফিশের বিস্তার বাড়ছে। এটি কিভাবে দূর করতে হবে এ বিষয়ে ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিদ্যালয়ের মেরিন ফিশারিজ এবং সমুদ্র বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. শফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সাগরে যে সকল প্রাণী (খাদক) এই জেলিফিশগুলো খেয়ে থাকে সেগুলো কমে যাওয়ার কারণে জেলিফিশ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদি এই প্রাণী (খাদক) গুলো বেড়ে যায় তাহলে জেলিফিশ কমে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights